Traditional Folk Culture: বিজয়ার পরেই রামায়ণ জীবন্ত বিষ্ণুপুরে! ৫০০ বছরের প্রাচীন রাবণকাটা উৎসবে মাতল মল্লভূম

Last Updated:

Traditional Folk Culture: বিজয়া দশমীর পর বাঙালির বিষাদের সুর কাটিয়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো রাবণকাটা উৎসব। কাঠের বিশাল মুখোশ, নাচ ও মল্ল রাজাদের আমলের ঐতিহ্য দেখতে মন্দির চত্বরে উপচে পড়ল ভিড়। প্রাচীন এই লোক উৎসবকে কেন্দ্র তুঙ্গে উন্মাদনা।

+

প্রাচীন লোক উৎসবে মেতে ওঠেন হাজার হাজার মানুষ

বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: দুর্গাপুজোর বিসর্জনের পর যখন বাঙালির মনে বিষাদের সুর, ঠিক তখনই বিষ্ণুপুরে শুরু হয় উৎসবের নতুন আবহ। প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রাবণকাটা লোক উৎসবকে কেন্দ্র করে আনন্দে মাতোয়ারা শহরবাসী। পুরাণের কাহিনি, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং কাঠের বিশাল মুখোশের সমাহারে এই উৎসব আজও বিষ্ণুপুরের লোকসংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের গভীর আবেগ।

প্রথা অনুযায়ী, বিজয়া দশমী থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে পালিত হয় রাবণকাটা উৎসব। প্রথম দিন ইন্দ্রজিৎ বধ, দ্বিতীয় দিন কুম্ভকর্ণ বধ এবং শেষ দিনে রাবণ বধের পালা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দ্বাদশীর সন্ধ্যায় রাবণ বধের মধ্য দিয়ে এবারের উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসব দেখতে প্রতি বছর বহু মানুষ ভিড় জমান। দুর্গাপুজোর পর এই উৎসবকে ঘিরেই বিষ্ণুপুরের মানুষের মধ্যে তৈরি হয় নতুন করে আনন্দের আবহ।

আরও পড়ুন: দামি মেশিন লাগে না, ইনভেন্টমেন্ট নামমাত্র! সামান্য ‘এই’ জিনিস বেচে ঘরে আসছে হাজার হাজার টাকা

উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউয়ের মন্দির প্রাঙ্গণ ও কাটানধার এলাকায় জমে ওঠে দর্শনার্থীদের ভিড়। কাঠের তৈরি বিশাল মুখোশ, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের ছন্দ এবং শিল্পীদের বিশেষ নৃত্যশৈলীতে জীবন্ত হয়ে ওঠে রামায়ণের নানা চরিত্র। প্রচলিত রীতি অনুসারে, জাম্বুবানের নির্দেশে হনুমান পর্যায়ক্রমে ইন্দ্রজিৎ, কুম্ভকর্ণ ও রাবণকে বধ করেন। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, মল্লরাজ রঘুনাথ সিংহের আমলে আনুমানিক ১৬২৬ খ্রিস্টাব্দে এই উৎসবের সূচনা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ আচার ও রীতিনীতি মেনে উৎসবটি পালিত হয়ে আসছে।

আরও পড়ুন: উত্তর থেকে দক্ষিণে যাতায়াত আরও সহজ, এই ‘নয়া’ সরকারি বাস পরিষেবায় পর্যটকদের পোয়াবারো

রাবণকাটা উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এর সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও অংশগ্রহণ। সারা বছর বিভিন্ন পেশায় যুক্ত থাকলেও উৎসবের দিনগুলিতে শিল্পীরা একত্রিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে অংশ নেন। তাঁদের পরিশ্রম ও শিল্পসত্ত্বার মধ্য দিয়েই আজও বেঁচে রয়েছে বিষ্ণুপুরের এই প্রাচীন লোকপরম্পরা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রায় নানা বদল এলেও রাবণকাটা উৎসবের আকর্ষণ কমেনি। শুধু বিনোদন নয়, এই উৎসব বিষ্ণুপুরের সাংস্কৃতিক পরিচয় বহন করে চলেছে। প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য আজও প্রমাণ করে, মানুষের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় লোকসংস্কৃতি কীভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকতে পারে।

Previous post

আগেই ভরসা জুগিয়েছিলেন গম্ভীররা, ক্রাইস্টচার্চে ভারতকে জিতিয়ে সেই ভরসার মান রাখলেন তিলক বর্মা

Next post

প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম মোতায়েন, লক্ষাধিক জমায়েতের আশঙ্কায় চরম তৎপরতা ফ্রান্সে

Post Comment

You May Have Missed