Kojagari Lakshmi Puja: প্রতি বছর নতুন কেনার ঝামেলা শেষ, মাটির প্রতিমাকে টেক্কা দিয়ে বাজারে বাজিমাত পিতলের লক্ষ্মী মূর্তির

Last Updated:

Kojagari Lakshmi Puja: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বাঙালির চিরাচরিত মাটির প্রতিমা ও সরার পটচিত্রের জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে পিতলের মূর্তি। নদিয়া জেলাজুড়ে পিতলের প্রতিমার বিক্রি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেলেও চাহিদা কমে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা।

+

লক্ষ্মীপুজোর আগে পিতলের তৈরি প্রতিমার ব্যাপক চাহিদা

নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্যে যেন বদলের স্পষ্ট ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুগ যুগ ধরে যে সরার পটচিত্র এবং মাটির প্রতিমায় ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা হয়ে আসত, বর্তমান বাজারে সেই চিরচেনা ঐতিহ্যের জায়গায় জায়গা করে নিচ্ছে পিতলের মূর্তি। নদীয়ার বিভিন্ন এলাকার পুজোবাজারে এবার মাটির প্রতিমার চেয়ে পিতলের লক্ষ্মীমূর্তির দিকেই ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি চোখে পড়ছে।

বাসন ও ধাতব সামগ্রীর ব্যবসায়ী কাঞ্চন দত্তের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর পিতলের লক্ষ্মীমূর্তির বিক্রি এবং চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সিংহাসনে পিতলের প্রতিমা রাখলে তার ঔজ্জ্বল্য বা সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ধরে রাখলেও এর রঙ নষ্ট হয় না। ফলে প্রতি বছর নতুন প্রতিমা কেনার বদলে এককালীন বিনিয়োগ হিসেবে মানুষ এই ধাতব মূর্তির দিকে বেশি ঝুঁকছেন। তিনি আরও জানান, বাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে সাধারণত কেজি হিসেবে এই প্রতিমাগুলি বিক্রি করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: মুড়িগঙ্গার উত্তাল স্রোতে হুড়মুড়িয়ে তলিয়ে গেল ট্রলার, অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা ৫ জনের…

অন্যদিকে, এই নতুন প্রবণতার জেরে চরম সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটির প্রতিমা প্রস্তুতকারক পম্পা পালের কথায় উঠে এসেছে সেই হতাশার চিত্র। তিনি জানান, বাজারে পিতলের ঠাকুরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের তৈরি মাটির লক্ষ্মীর চাহিদা অনেকটাই কমে গিয়েছে। চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি মাটি ও রঙের মাত্রাতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির কারণে এবার তাঁদের প্রতিমা তৈরির পরিমাণও কমাতে বাধ্য হতে হয়েছে। সারা বছর ধরে লক্ষ্মী ছাড়াও সরস্বতী, বিশ্বকর্মা, মনসার মতো বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি গড়ে এবং সংসারের কাজ সামলে রাতে জেগে কাজ করলেও উপযুক্ত পারিশ্রমিক মিলছে না।

আরও পড়ুন: মাঠে নেমে বছরের পর বছর ঘাম ঝরানো লড়াইয়ের পুরস্কার, সরকারি চাকরি পেলেন জেলার ৯ ক্রীড়াবিদ

এর পাশাপাশি কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য না পাওয়ার ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি। সবমিলিয়ে, স্থায়িত্ব ও আধুনিক সুবিধার কাছে যেন মার খাচ্ছে মৃৎশিল্পীদের হাতের নিপুণ কাজ ও প্রাচীন সংস্কৃতি। ঐতিহ্য বজায় রেখে মাটির প্রতিমার কদর ধরে রাখা যাবে, নাকি আধুনিকতার ভিড়ে তা ক্রমশ হারিয়ে যাবে, লক্ষ্মীপুজোর মুখে এই দ্বন্দ্বই এখন নদীয়ার মৃৎশিল্পীদের অস্তিত্বের লড়াইকে সামনে তুলে ধরছে।

Post Comment

You May Have Missed