প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম মোতায়েন, লক্ষাধিক জমায়েতের আশঙ্কায় চরম তৎপরতা ফ্রান্সে

প্যারিস : জীবনযাপনে খরচ বেড়ে যাওয়া, স্কুলের পরিস্থিতি এবং জনসেবা ব্যবস্থার উপর চাপের মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় গত সপ্তাহান্তে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রুখতে জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হল ফ্রান্সে। তারই অংশ হিসেবে শনিবার সারা দেশে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডার্ম (সামরিক মর্যাদাসম্পন্ন পুলিশ) মোতায়েন করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, পুলিশের তথ্যমতে, প্যারিসে আয়োজিত নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ১ লক্ষ ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের আগে প্যারিসের প্রধান জাদুঘর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা সেগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সরকার আরও একটি অস্থির দিনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুলিশি টহল বাড়িয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং সাঁজোয়া গাড়ি, হেলিকপ্টার ও জলকামান প্রস্তুত রেখেছে।

এদিকে সম্প্রতি ফ্রান্সে বসবাসকারী এবং সেখানে ভ্রমণরত ভারতীয়দের সতর্ক থাকতে ও সাবধানতা অবলম্বন করতে বলেছে ভারত। ইউরোপীয় এই দেশটির বিভিন্ন অংশে চলতে থাকা অস্থিরতা, সংঘর্ষ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্ফু জারির প্রেক্ষাপটে এই পরামর্শ দেওয়া হয়। ফ্রান্সে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গত বুধবার এক নির্দেশে ভারতীয় নাগরিকদের বড় জমায়েত বা জনাকীর্ণ স্থান- যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেইসব এলাকা এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশ মেনে চলতে অনুরোধ জানায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ফ্রান্সে বিভিন্ন স্থানে জারি করা কার্ফুর পরিপ্রেক্ষিতে সবাইকে সতর্ক থাকতে ও যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়। ফ্রান্সে ব্যাপক বিক্ষোভ ও অশান্তির প্রেক্ষাপটে এই পরামর্শ জারি করা হয়।  হাইস্কুলের পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির কারণে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভের রূপ নিয়েছে। এদিকে এই অস্থিরতার মধ্যেই লুঠপাট, অগ্নিসংযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় মিশন সে দেশের ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং ফরাসি সরকারের ওয়েবসাইট (gouvernement.fr)-এর তথ্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকতে বলেছে। এছাড়া, প্যারিস অঞ্চলে সরকারি গণপরিবহন পরিচালনাকারী সংস্থা ‘আরএটিপি’ (RATP)-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে গণপরিবহন সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকরা প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস অথবা মার্সেইতে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বলে পরামর্শে উল্লেখ করা হয়েছে।

Previous post

আগেই ভরসা জুগিয়েছিলেন গম্ভীররা, ক্রাইস্টচার্চে ভারতকে জিতিয়ে সেই ভরসার মান রাখলেন তিলক বর্মা

Next post

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন পাচারের অভিযোগ, জোড়াসাঁকো থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করল মুম্বই পুলিশ

Post Comment

You May Have Missed