পদ আঁকড়ে মমতা, হার নিশ্চিত বুঝে দুপুরেই মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
কলকাতা: ‘ছাড়তে জানতে হয়। পদ আর সম্পদ আঁকড়ে ধরবে যত, পিছলে যাবে মুঠোয় ধরা বালির মতো, তাই সময় থাকতে, ছাড়তে শিখে নাও!’
বছর দুয়েক আগে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছিল। বন্ধুদের আড্ডায় একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি ‘ছাড়তে জানতে হয়’ বলে কতগুলো লাইন বলেছিলেন। আজ তাঁর বলা সেই কথাগুলোই যেন প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে! সবাই কিন্তু ছাড়তে পারেন না। বিধানসভা নির্বাচন হয়ে গিয়েছে, ফল বেরিয়ে গিয়েছে, রাজ্যে একটা ঐতিহাসিক পালা বদল হয়েছে, তারপর আজ MCC অর্থাৎ, আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধিও উঠে গেল। কিন্তু, আশ্চর্যের বিষয়, দল এমনকী নিজে হেরে যাওয়ার পর, এখনও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে বলছেন, “আমরা তো হারিনি। হারলে পদত্যাগ করতাম।”
আজ থেকে পনেরো বছর আগে কিন্তু এটা হয়নি। দিনটা ছিল দু-হাজার এগারো সালের তেরোই মে, দল হারছে, নিজে যাদবপুর থেকে হারছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর দফতর দুপুর দুটোয় সময় দিয়েছিল, কিন্তু, হার নিশ্চিত বুঝে গণনার মাঝেই দুপুর একটা নাগাদ রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সবচেয়ে বড় কথা, রাজভবনে গিয়েছিলেন সরকারি গাড়িতে চেপে। কিন্তু ইস্তফা দিয়ে রাজভবন থেকে বেরনোর সময় পার্টিরক গাড়িতে করে গিয়েছিলেন আলিমুদ্দিনে। সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
দু-হাজার এগারো সালের মে মাসে সরকারের পতন, দলের ভরাডুবির পর অন্তরালে চলে গেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। দু-হাজার তেরোর পাঁচই ফেব্রুয়ারি, এ নিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করেছিলেন এবিপি আনন্দের সম্পাদক সুমন দে। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, দীর্ঘদিন, বেশ কয়েক মাস তাঁকে জনসভায় দেখা যায়নি, পার্টি অফিসে নিয়মিত গিয়েছেন, কিন্তু পাবলিক মিটিং করেননি, তার কোনও বিশেষ কারণ, নির্বাচনে ধাক্কার হতাশা?
উত্তরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘না, হতাশা আমার হওয়া সম্ভব নয়। আমি সবসময় আশাবাদী, নির্বাচনে একটা পরিবর্তনের পর আমার মনে হয়েছে, একটু দূরে থাকাই কিছুদিনের জন্য উচিত, সেটাই শোভন। পাবলিক লাইফ থেকে আমি দূরে ছিলাম না, যাতায়াতটা, মিটিং করাটা একটু কমিয়েছিলাম। কিন্তু পার্টির মিটিং, আভ্যন্তরীন মিটিং কোনও সময় উপেক্ষা করিনি, করেছি। জনগণের কাছে কিছু বলতে যাব এর জন্য একটু সময় নিয়েছিলাম।’



Post Comment