এরাই তো কলকাঠি নেড়েছিল… তৃণমূলের ভরাডুবির পর ৩টি পাঁঠা নিয়ে মন্দিরে প্রাক্তন বিধায়ক!

এরাই তো কলকাঠি নেড়েছিল… তৃণমূলের ভরাডুবির পর ৩টি পাঁঠা নিয়ে মন্দিরে প্রাক্তন বিধায়ক!

রানা দাস, পূর্বস্থলী: তৃণমূলের (TMC) প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় আগেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তৃণমূলের ভরাডুবির পর, এবার, পুজো দিলেন, পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। সেখানেও চমক!

৩টি পাঁঠা নিয়ে মন্দিরে গেলেন পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। সেগুলির গলায় ঝোলানো কাগজ, তাতে লেখা স্বপন দেবনাথ, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্য়ায়, অরূপ বিশ্বাসের নাম! 

পরপর তিনটে ছাগল। সার দিয়ে দাঁড়িয়ে। এ যেন পরাজয়ের পর তৃণমূলে ক্ষোভের বিস্ফোরণের অভিনব এক ছবি। তপন চট্টোপাধ্য়ায়ের মনস্কামনা পূরণ হল! ৩টি পাঁঠার গলায় গলায় ঝুলছে কাগজে লেখা নাম! তিনটি নাম! নামগুলো স্পষ্ট! কারও গলায় ঝোলানো কাগজে লেখা – স্বপন দেবনাথ, পূর্বস্থলী দক্ষিণ। আরেকজনের গলায় ঝোলানো কাগজে লেখা – অরূপ বিশ্বাস, টালিগঞ্জ। তৃতীয়জন, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, কাটোয়া।

পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক, তৃণমূল কংগ্রেসের তপন চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘এরাই তো কলকাঠি নেড়েছিল যাতে বিধানসভার টিকিট আমি না পাই। এই রবি চ্য়াটার্জি, স্বপন দেবনাথ, অরূপ বিশ্বাস। মানত করেছিলাম এরা হারলে পাঁঠা বলি দেব।’ তিনজন হারায় তপন চট্টোপাধ্য়ায়ের মনস্কামনা পূরণ হয়েছে। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্য়ায় ৩টি পাঁঠা নিয়ে হাজির বুড়োরাজ শিব মন্দিরে।

দল প্রশাসন থেকে সরতেই খসে পড়েছে ক্ষমতার পলেস্তরা। আর তারপরই ক্ষোভের সুনামি আছড়ে পড়ছে। পূর্ব বর্ধমানের ১৬ টি আসনের মধ্যে মাত্র ২টিতে টিমটিম করে জ্বলছে তৃণমূল। টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। দল হারতেই সটান পাঁঠা নিয়ে মন্দিরে হাজির পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। মন্দির চত্বরে ঢাক, ঢোল বাজিয়ে চলল নাচ। একেবারে নাম করে হল পুজো। 

তপন চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘আমাকে ভগবান বাঁচিয়ে দিয়েছিল। আমি বেঁচে গিয়েছি। অভিষেকের আইপ্য়াক, সেই আইপ্য়াক ২০ লক্ষ টাকা চেয়েছিল আমার কাছে। এদের উৎসর্গ করলাম। আমি বেঁচে গিয়েছি কিন্তু এরা বাঁচেনি।’ টিকিট না পেয়েই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন আইপ্য়াককে। আর এদিন দলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে।

প্রাক্তন বিধায়ক আরও বলেন, ‘কাকে দায়ী করব? একদম অভিষেক ব্য়ানার্জি। অভিষেক ব্য়ানার্জি ৭৪টা MLA-একে বাদ দিয়ে ও ভেবেছিল আমি করব সব। কিন্তু পারল না। সমস্ত জায়গায় দেখুন ৭৪-এর সঙ্গে আরও ২৬ ধরুন ১০০ জন বাদ হয়ে গেল।’

আরও পড়ুন: ভোটে হারার পরই ভারতীয় ক্রিকেটে বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার ক্রিকেটার, চিঠি ভিভিএস লক্ষ্মণের

Post Comment

You May Have Missed