‘নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছি’, অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে বাড়তি নিরাপত্তা সরতেই দাবি স্থানীয়দের

‘নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছি’, অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে বাড়তি নিরাপত্তা সরতেই দাবি স্থানীয়দের

কলকাতা: অবশেষে মমতা-অভিষেকের বাড়তি নিরাপত্তায় কাটছাঁট। সরল সিজার্স ব্যারিকেড থেকে স্ক্যানার। একই ছবি ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনেও। আর বাড়তি পুলিশ, নিরাপত্তা সরতেই স্বস্তি ফিরেছে, দাবি স্থানীয়দের। 

অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দুই ঠিকানা কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিষেকের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি ‘শান্তিনিকেতন’-র পিছনেই থাকেন এক মহিলা, সেই স্থানীয়ের দাবি এতদিন ওই বাড়ির দিকে তাকানো পর্যন্ত যেত না। তিনি বলেন, ‘আমরা এখান থেকে প্রয়োজনে কাজের সময় গেলেও, তাকাবার ক্ষমতা ছিল না। পুলিশ দিয়ে এখানে ব্যারিকেড করে আটকে রাখা হত। আমরা যে কী নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছি! আমরা বলতে পারতাম না। আজ আমরা মুক্ত। ভীষণ ভাল লাগছে।’ হরিশ মুখার্জি রোডের আরেক বাসিন্দার মন্তব্য, ‘আমাদের ভারতবর্ষে দুই প্রধানমন্ত্রী ছিল। একজন দিল্লিতে যাঁকে সবাই চেনে আর একজন এই পশ্চিমবঙ্গে ছিল। হাজার হাজার পুলিশ থাকত। আজকে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি আমার ভাগ্য ভাল।’

আরেক স্থানীয় অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বাড়িকে রাজপ্রাসাদ বলে দাবি করে জানান, ‘এরম আনন্দ লটারির টিকিট পেলেও হয়না। দেখছি রাজপ্রাসাদটা কীভাবে শূন্য হচ্ছে।’  

আরও পড়ুন:- বিজেপির মন্ত্রিসভায় কারা কারা থাকবেন ? সম্ভাব্য মন্ত্রিদের তালিকা প্রকাশ্যে

মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় দু’জনই জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। কিন্তু, সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশ এবং সিকিওরিটি কন্ট্রোল রিভিউ করতে গিয়ে দেখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনই কিছু অতিরিক্ত নিরাপত্তা পেতেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির এলাকা হরিশ চ্য়াটার্জি স্ট্রিট। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ির এলাকা কালীঘাট রোড এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অফিস যেখানে সেই ক্য়ামাক স্ট্রিটে এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ছিল। সূত্রের খবর, রিভিউ করতে গিয়ে দেখা গেছে, এই পর্যায়ের নিরাপত্তা তাঁদের পাওয়ার কথা নয়। সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তার থেকেও অতিরিক্ত কিছু নিরাপত্তা ছিল তাঁদের জন্য়। এরপরই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্য়াহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ সকালেই পুলিশের কিয়স্ক বুথ সম্পূর্ণভাবে খালি করে দেওয়া হয়েছে। একজন পুলিশকর্মীও আর নিরাপত্তার জন্য নেই। সিজার ব্যারিকেড গতকালই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গেটের সামনে যেসব পুলিশকর্মী রাস্তায় গলির মুখে ছিলেন, সকাল সাড়ে ৬টার সময় সেইসব পুলিশকর্মীও এখান থেকে চলে গেছেন। পুলিশের বুথ সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে। সকালে গলির ভিতরে তাঁর বাড়ির সামনে মাত্র কয়েকজন পুলিশকর্মীকে দেখা যায়। অতিরিক্ত পুলিশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেইমতো সেই পুলিশ প্রত্যাহার হয়ে গেলও।

Post Comment

You May Have Missed