নির্বাচনের আগে মতুয়াগড়ে নাম বাদ বহু ভোটারের, প্রতিশ্রুতিই সার! শান্তনুকে আক্রমণ মমতাবালার
কলকাতা: আশঙ্কাই সত্য হল শেষ পর্যন্ত। SIR-এর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হল না বহু মতুয়ার। একাধিক জেলা মিলিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ গেল। আর সেই নিয়ে বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ করল তৃণমূল। (West Bengal SIR Final List)
SIR নিয়ে গোড়া থেকেই আতঙ্কে ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা। চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে কি না, আশঙ্কায় ছিলেন সকলে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে দেখা গেল, সেই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। (West Bengal SIR Voter Final List)
মতুয়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দেখা করে এসেছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফেও মতুয়াদের নাম বাদ পড়া নিয়ে আশঙ্কা ছিল। আজ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, নদিয়ার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলির মধ্যে নাকাশিপাড়ায় ৩ হাজার ১২৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। কৃষ্ণনগর উত্তরে বা পড়েছেন ৩ হাজার ৭৬ জন মতুয়া। শান্তিপুরে মতুয়া বাদ পড়েছেন ৮ হাজার ৪২ জন।
এখানেই শেষ নয়, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে ৬ হাজার ৭০৪ জন মতুয়া বাদ পড়েছেন। রানাঘাট উত্তর-পূর্বে ৬ হাজার ৪০৪ জন, রানাঘাট দক্ষিণে ৭ হাজার ১২৬, চাকদায় ৫ হাজার ৮৬৪ এবং কল্যাণীতে ৯ হাজার ৩৭ জন মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলির মধ্যে, বাগদা ১৫ হাজার ৩০৩, বনগাঁ উত্তরে ৭ হাজার ৯২৬, বনগাঁ দক্ষিণে ৬ হাজার ৯০২ জন, গাইঘাটায় ৬ হাজার ৭৭০, হাবরায় ৫ হাজার ৫৮৭, অশোকনগরে ৬ হাজার ৫৯৬ জন, আমডাঙায় ৭ হাজার ৫৫৮, নৈহাটিতে ৬ হাজার ৫৬২, জগদ্দলে ৮ হাজার ৭৭৮ মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে।
এর মধ্যে কিছু জায়গায় মতুয়াদের সংখ্য়া বেশি। অনেক জায়গায় আবার সংখ্যায় কম মতুয়ারা। সব জায়গাতেই মতুয়াদের অনেকের নাম বাদ গিয়েছে। মতুয়াগড়ে এত মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন দলের নেতারা ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দিলেও, বাস্তবের সঙ্গে তার ফারাক ধরা পড়ল ভাল মতোই।
এমন পরিস্থিতিতে বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ৯০ শতাংশ মতুয়াদের নাম কাটা গিয়েছে, যাঁরা ওপার বাংলা থেকে এসেছেন। আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি, SIR-এ সবচেয়ে বেশি যদি বাদ যায়, সেটা মতুয়ারাই বাদ পড়বেন। আজ সেটা সত্য হয়ে গেল। প্রমাণ হয়ে গেল যে, ভোটটা নেওয়ার সময় নিয়ে গেল, আর আজ মতুয়াদের ভোটটা কেটে দিল নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। আজ ওঁরা কান্নাকাটি করছেন যে কী হল! এতদিন যে আশ্বাস দিয়ে এসেছিলেন শান্তনু ঠাকুর যে, ওঁরা ভোট করে দেবেন, মতুয়া কার্ড করলে ভয় নেই, ভয় না পেয়ে যেতে, মতুয়া কার্ড করালে নাগরিকত্ব পাবে, ভোটাধিকার পাবে…আজ সেই শান্তনু ঠাকুরের ভোল পাল্টে গিয়েছে।”
SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতে শুরু করলে এদিন এবিপি আনন্দে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মতুয়াদের প্রতিনিধি শান্তনু ঠাকুরও। তাঁর বক্তব্য ছিল, “কার নাম বাদ যাবে, কী হবে, তা আমরা বলতে পারব না। আমাদের বলার কথাও নয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি যে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কাউকে ভারতের বাইরে পাঠানো হবে না। তাঁরা ভারতের নাগরিক হয়েই থাকবেন। এটাই ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন কমিশন কী করবে, তাদের ব্যাপার।”



Post Comment