‘ডুরান্ড লাইন’, অন্যতম বিতর্কিত সীমান্ত!
দক্ষিণ এশিয়ায় একাধিক সীমান্তের মধ্যে অন্যতম বিতর্কিত সীমান্ত হল ডুরান্ড লাইন। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যের এই ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত পৃথিবীর অন্যতম অস্থির ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবে সংবেদনশীল একটা সীমান্ত। কাগজে কলমে এই সীমান্ত থাকলেও বাস্তবে এই সীমান্ত নিয়ে রয়েছে চূড়ান্ত মতভেদ।
ইতিহাস কী বলছে?
১৮৯৩ সালের আশেপাশে এই ‘ডুরান্ড লাইন’ (Durand Line) টানা হয়। সেই সময় ব্রিটিশ ভারতের সীমারেখা টানার জন্য ডাকা হয় ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যর মর্টিমার ডুরান্ডকে (Sir Mortimer Durand)। আফগান আমির আবদুর রহমান খানের (Afghan Emir Abdur Rahman Khan) সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমেই ম্যাপে ডুরান্ড লাইন টানা হয়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয় ভারত। আর একই সঙ্গে পাকিস্তান ওই ডুরান্ড লাইনকেই সীমান্ত হিসাবে মান্যতা দিয়ে থাকে।
আসলে কী সমস্যা?
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকেই এই ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি আফগানিস্তান। আফগানিস্তানের কোনও সরকারই এই লাইনকে মান্যতা দেয়নি। তার কারণ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের এই সীমান্ত এলাকা জাতিগত ভাবে অত্যন্ত বৈচিত্রময়।
উদাহরণ হিসাবে বলা যে পশতুন জাতিগোষ্ঠীর কথা। এই ডুরান্ড লাইনের দুই পারেই বসবাস করে এই জাতিগোষ্ঠী। তাঁদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম সবই এক। ফলে, দুই পরের মানুষ একে অপরের সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত। আর সেই কারণেই এই ডুরান্ড লাইন নিয়ে আপত্তি করে আফগানিস্তান।
পাকিস্তানের কী মনোভাব?
ডুরান্ড লাইনকেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়ে থাকে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এই সীমান্তরেখা বরাবর কাঁটাতার বসিয়েছে। এ ছাড়াও বসেছে একাধিক চেকপোস্ট। তারা প্রয়োজনীয় একাধিক নির্মাণও করেছে এই সীমান্তরেখা বরাবর। হিসাব বলছে এই সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশই কাঁটাতার বসিয়ে ফেলেছে আমাদের পড়শী দেশ। যদিও এই ক্ষেত্রে প্রতি পদক্ষেপেই বিরোধিতা করেছে আফগানিস্তান। কাবুলের বক্তব্য ঔপনিবেশিক আমলের চাপিয়ে দেওয়া এই সীমান্ত আসলে সঠিক নয়।
এই মুহূর্তে এই ডুরান্ড লাইন বরাবরই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাচ্ছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তবে ডুরান্ড লাইন শুধুমাত্র এই দুই দেশের মধ্যে কোনও ভৌগলিক সমস্যা নয়। বরং ইতিহাস, নিরাপত্তা ও কূটনীতির একটা জটিল সমীকরণ হল এই ডুরান্ড লাইন। আর সেই কারণেই এখনও দুই দেশের মধ্যে এই সীমান্ত রেখ একটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে রয়েছে।



Post Comment