ইচ্ছেমতো টাকা ওড়ানো নয়, রাজনৈতিক দলের ভোটের খরচের সীমা বেঁধে দিতে আর্জি, নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

ইচ্ছেমতো টাকা ওড়ানো নয়, রাজনৈতিক দলের ভোটের খরচের সীমা বেঁধে দিতে আর্জি, নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি: নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির খরচ নিয়ে কেন্দ্র ও কমিশনকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলির খরচ-খরচার ঊর্ধ্বসীমা যাতে বেঁধে দেওয়া হয়, সেই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ। আগামী ছয় সপ্তাহ অর্থাৎ ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সব পক্ষের জবাব তলব করা হয়েছে। বর্তমানে প্রার্থীদের খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া থাকলেও, রাজনৈতিক দলগুলির ক্ষেত্রে খরচের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। এই নিয়মকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। (Election Expenses)

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ নোটিস জারি করেছে। রাজনৈতিক দলগুলির খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে আইনজীবী প্রশান্তভূষণ মামলাকারীদের হয়ে সওয়াল করেন আদালতে। জানান, বর্তমানে যে আইন রয়েছে, তাতে নির্বাচনের সময় একজন প্রার্থী সর্বাধিক কত টাকা খরচ করতে পারবেন, তার সীমা বেঁধে দেওয়া থাকলেও, বাস্তবে তা কার্যকর হয় না। কারণ ওই প্রার্থীর পিছনে দল যত টাকা ঢালে, তা হিসেবের মধ্যে ফেলা হয় না। তাই রাজনৈতিক দলগুলির খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া প্রয়োজন। (Supreme Court)

মামলাকারীরা সর্বোচ্চ আদালতে জানান, রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী খরচে কোনও ঊর্ধ্বসীমা না থাকায়, সমানে সমানে লড়াইয়ের অবকাশই থাকে না। বরং সংবিধানের ১৪ নং অনুচ্ছেদে যে সমান অধিকারের উল্লেখ রয়েছে, তা লঙ্ঘিত হয়। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত্তি। বিশেষ করে ভারতের মতো সাংবিধানিক গণতন্ত্রে এর গুরুত্ব অসীম। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে না দেওয়া গেলে, সংবিধানের ওই বিধানের মৃত্যু অবধারিত। 

এই  ধরনের বিধিনিষেধ কতটা কার্যকর হবে, সেই নিয়ে গোড়ায় প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি বাগচি। মত প্রকাশের অধিকারকে সামনে রেখে কোনও প্রার্থীর হয়ে তাঁর বন্ধুরাও চাইলে খরচ করতে পারেন বলে জানান তিনি। এতে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ নির্বাচনী বন্ডের প্রসঙ্গ টানেন। অনিয়ন্ত্রিত নির্বাচনী খরচে রাশ টানা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। ব্রিটেনে যে এমন আইন রয়েছে, তাও তুলে ধরা হয় আদালতে।

আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, নির্বাচনী খরচে লাগাম না থাকায় অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারতীয় নির্বাচনে, যেখানে যাবতীয় প্রচারের কেন্দ্রে একজন নেতাই। বিপুল পরিমাণ টাকা খরচের জন্যই এটা সম্ভব হয়। কিন্তু এই রীতি সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি।

Previous post

Job News চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! উচ্চ মাধ্যমিক পাশ থাকলেই সরাসরি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগ, জানুন

Next post

হস্টেলের বিছানায় পড়ে দেহ, রহস্যমৃত্যু ডাক্তারি পড়ুয়ার ! মর্মান্তিক ঘটনা কল্যাণী JNM হাসপাতাল

Post Comment

You May Have Missed