নাম রয়েছে ‘এপস্টিন ফাইলসে’, এবার ‘আপত্তিকর’ ছবি সামনে এল স্টিফেন হকিংয়ের, পরিবার বলল…

নাম রয়েছে ‘এপস্টিন ফাইলসে’, এবার ‘আপত্তিকর’ ছবি সামনে এল স্টিফেন হকিংয়ের, পরিবার বলল…

নয়াদিল্লি: ধনকুবের থেকে রাজনীতিক, সমাজকর্মী থেকে রাজ পরিবারের সদস্য, ‘এপস্টিন ফাইলসে’ নাম পাওয়া গিয়েছে পৃথিবীর তাবড় ব্যক্তিত্বের। শুধু নামের উল্লেখই নেই, অপ্রীতিকর নানা ছবিও সামনে এসেছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়েরও। স্বল্পবসনা নারীদের সঙ্গে হকিংয়ের একটি ছবি এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, ওই মহিলারা হকিংকে দেখভাল করতেন।(Stephen Hawking)

আমেরিকার যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের কুকর্ম নিয়ে লক্ষ লক্ষ নথি সামনে এসেছে, তা নিয়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। কিন্তু ‘এপস্টিন ফাইলসে’ হকিংয়ের উল্লেখ থাকতে পারে বলে মাথাতেও আসেনি কারও। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে, হাতে ককটেল নিয়ে রোদ পোহাচ্ছেন হকিং। তাঁর দুই পাশে বিকিনি পরিহিত দুই তরুণী রয়েছেন। তাঁদের হাতেও পানীয় রয়েছে। একজন হকিংকে মাথা সোজা রাখতে সাহায্য় করছেন। (Epstein Files)

২০০৬ সালে ছবিটি তোলা হয় বলে জানা গিয়েছে। সেন্ট টমাসের রিৎজ-কার্লটন হোটেলে আয়োজিত সায়েন্স সিম্পোসিয়ামে বক্তৃতা করতে গিয়েছিলেন হকিং। আমেরিকা যে ৩৫ লক্ষ নথি প্রকাশ করেছে, সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যে ২১ জন বিজ্ঞানী সেন্ট টমাস এবং এপস্টিনের প্রাইভেট দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমসে’ গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্য শামিল ছিলেন হকিংও। অভিযোগ, এপস্টিনের ওই প্রাইভেট দ্বীপে নাবালিকাদের উপর যৌন নির্যাতন চলত। তাবড় প্রভাবশালী ব্যক্তির আনাগোনা ছিল সেখানে।

হকিংয়ের ওই ছবি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও পরিবারের দাবি, ছবিতে যে দুই তরুণীকে দেখা যাচ্ছে, তাঁরাই হকিংয়ের দেখভাল করতেন। ওই দুই তরুণীই ব্রিটেনের নাগরিক। দীর্ঘ সময় হকিংয়ের দেখভালে নিযুক্ত ছিলেন তাঁরা। তাই ছবিটির নিরিখে হকিংয়ের চরিত্র যাচাই করা ঠিক নয় বলে দাবি তাঁর পরিবারের। যদিও ঘটনাক্রম নিয়ে বহু প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। ‘এপস্টিন ফাইলসে’ কমপক্ষে ২৫০ বার হকিংয়ের উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। এপস্টিন এবং ব্রিটেনের রাজ পরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের কুকীর্তি ফাঁস করেছিলেন যে ভার্জিনিয়া জিউফ্রে, তিনিও হকিংয়ের নাম উল্লেখ করেন। 

দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় মোটর নিউরন ডিজিস ALS কাবু করে রেখেছিল হকিংকে। নড়াচড়া তো দূর, নিজে মুখ নেড়ে কথাও বলতে পারতেন না তিনি।  ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান হকিং। এপস্টিন আয়োজিত একটি কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে তাঁকে আপ্যায়নও করে এপস্টিন। যদিও হকিংয়ের পরিবারের বক্তব্য, ‘বিংশ শতাব্দির পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপক হকিংয়ের অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি যে মোটর নিউরন ডিজিসে আক্রান্ত ছিলেন, তা সর্বজনবিদিত, যার দরুণ ভেন্টিলেটরের উপর নির্ভরশীল ছিলেন তিনি, শারীরিক ভাবে দুর্বল ছিলেন, ভয়েস সিন্থেসাইজ়ার, হুইলচেয়ারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকতে হতো। তিনি আপত্তিজনক আচরণ করেছেন বলে ভেবে নেওয়াটা ভুল এবং চূড়ান্ত বাড়াবাড়ি’।

Post Comment

You May Have Missed