এন্ট্রি লেভেলের চাকরি খেয়ে নেবে AI? সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের কী হবে? আগেভাগে সতর্ক করল IMF

এন্ট্রি লেভেলের চাকরি খেয়ে নেবে AI? সদ্য গ্র্যাজুয়েটদের কী হবে? আগেভাগে সতর্ক করল IMF

নয়াদিল্লি: যন্ত্রমেধা বা AI-এর বাড়বাড়ন্তে চাকরির বাজারের কী হবে, সেই নিয়ে নানা জনের নানা মত। এবার আশঙ্কার কথা শোনাল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারও। পৃথিবীর সর্বত্রই এর প্রভাব পড়তে চলেছে, কাজের জগতে সুনামি তৈরি হতে চলেছে বলে জানাল তারা। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের চাকরিগুলিকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল IMF. (Unemployment and AI)

IMF-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক কাজের বাজারে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চলেছে AI এবং AI-নির্ভর প্রযুক্তি, প্রায় ৪০ শতাংশ। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের চাকরিতে এই প্রভাব অনুভূত হবে বেশ। (Artificial Intelligence)

AI-এর সুদুরপ্রসারী প্রভাব বুঝে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে, AI নির্ভর অর্থনীতির জন্য নীতি তৈরি করতে হবে বলে মত ক্রিস্টালিনার। পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে বিশেষ কিছু স্কিল শুধু শেখা জরুরি নয়, বাস্তবে তা প্রয়োগও জরুরি বলে মনে করছেন তিনি। নইলে কাজের দুনিয়ায় মানুষকে পিছিয়ে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। 

ক্রিস্টালিনা বলেন, “সবচেয়ে যে চাকরিগুলি নিয়ে উদ্বেগ, ইতিমধ্যে শুরুও হয়ে গিয়েছে… তা হল এন্ট্রি লেভেলের চাকরি। যে কাজগুলিকে সহজেই স্বয়ংক্রিয় করে দেওয়া যায়। অল্পবয়সি গ্র্যাজুয়েট ছেলেমেয়ে, যাঁরা প্রথম চাকরি করতে ঢুকবেন, তাঁদের কী হবে? AI-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে যে নীতির প্রয়োজন, তা পূরণে  মনে হয় পিছিয়ে পড়ছি আমরা।”

ডিজিটাল পরিকাঠামোর দিক থেকে ভারত যে জায়গায় পৌঁছেছে, তা নিয়ে যদিও আশাবাদী ক্রিস্টালিনা। তবে যে ব্যবধান রয়েছে, তা অতিক্রম করা দরকার বলে মত তাঁর। এপ্রসঙ্গে আমেরিকার উদাহরণ টেনেছেন ক্রিস্টালিনা। তাঁর কথায়, “আমেরিকায় ইতিমধ্যেই বেতন এবং চাকরির প্রোফাইলে AI-এর প্রভাব চোখে পড়ছে। ১০টি চাকরির মধ্যে একটিতে AI-দক্ষতা চাওয়া হচ্ছে, সেই মতো বেতনও বেশি দেওয়া হচ্ছে।”

ক্রিস্টালিনা জানিয়েছেন, AI-দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু মানুষ বেশি রোজগার করছেন, আবার খরচও বেশি করছেন। এর ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ, বিনোদনের মতো কম দক্ষতাপূর্ণ পরিষেবার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মাঝারি আয়ের চাকরির ক্ষেত্র ছোট হচ্ছে ক্রমশ। ক্রিস্টালিনা বলেন, “এন্ট্রি লেভেলের চাকরিগুলি হারিয়ে যেতে দেখছি আমরা। ফলে সবে গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের জন্য চাকরি কোথায়? বিভিন্ন দেশের সরকার হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। আমরা তো অসহায় নই!”

যন্ত্রমেধাকে টেক্কা দিতে হলে শিক্ষায় সংস্কার ঘটাতে হবে, শিক্ষার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে, কর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং সবরকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে বলে মত ক্রিস্টালিনার।

Post Comment

You May Have Missed