বট ও অশ্বত্থের বিয়ে ফালাকাটা থানার মন্দির প্রাঙ্গনে ! আমন্ত্রিত পুলিশকর্মী-সহ ১৫০০ জন

বট ও অশ্বত্থের বিয়ে ফালাকাটা থানার মন্দির প্রাঙ্গনে ! আমন্ত্রিত পুলিশকর্মী-সহ ১৫০০ জন

আলিপুরদুয়ার: এমনই প্রাচীন গ্রামীন রীতির আয়োজনে গোটা ফালাকাটার মানুষই ভীড় জমালো থানা চত্ত্বরে।  প্রাচীনতম ভালোবাসা আজ যেনও পরিণতি পেল এক পুলিশ কর্মীর মধ্যস্ততায়! যাতে সামিল হলেন অন্যান্য পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারেরা। ফালাকাটা থানা চত্ত্বরের কালিমন্দির সংলগ্ন প্রাচীনতম বট-অশ্বত্থের শুভবিবাহের এই আয়োজন করেছিল ফালাকাটা থানা আবাসন শ্যামাপুজো কমিটি। 

আরও পড়ুন, উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে ! শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

তবে কেন এই উদ্যোগ পুলিশ কর্মীর ?  জানা যায়, মালদা থেকে গত মাস চারেক আগে ফালাকাটায় পোস্টিং হয়ে পরিবার-সহ এসেছেন এএসআই দিলিপ কুমার সরকার। শতাব্দী প্রাচীন এই বট-অশত্থের মিলন দেখে তার স্ত্রীর মনেই প্রশ্ন জাগে এরা বিবাহিত কিনা ?! তখন থেকেই অবিবাহিত এই মিলনকে স্বার্থক পরিণতি দিতে তাঁদের উদোগেই শুরু হয় প্রস্তুতি। তাঁদের প্রস্তাবেই সায় দিয়ে উদ্যোগ নেয় ফালাকাটা থানা আবাসন শ্যামাপুজো কমিটি। 

Alipurduar News: শতাব্দী প্রাচীন বট ও অশ্বত্থের বিয়ে ফালাকাটা থানার মন্দির প্রাঙ্গনে ! কন্যাদান থেকে পাত পেড়ে খাওয়া কিছুই গেল না বাদ

জানা যায়, পাত্র-পাত্রীর অভিভাবক বেশে পঞ্জিকামতেই স্থির করা হয়েছিল শুভবিবাহের দিনক্ষণ। রবিবার সন্ধ্যালগ্নে ছিল শুভবিবাহ। সেইসূত্রে বিবাহের নিমন্ত্রণ কার্ড বিলি থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল দুইপক্ষের মিলিত উদ্যোগে। বিয়ের প্যান্ডেল থেকে কুঞ্জ, ছাদনাতলা, খাওয়ার আয়োজন, ব্যান্ড পার্টি, আলোর রোশনাই, গঙ্গা নিমন্ত্রণ সবই প্রস্তুত করাই ছিল। এমনকি বিবাহের স্মৃতি ধরে রাখতে ক্যামেরার আয়োজনও হয়েছিল ঠিক আর পাচঁটা বিয়ের মতই। স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মী ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন এলাকার ১৫০০ বিশিষ্ট মানুষ।

Alipurduar News: শতাব্দী প্রাচীন বট ও অশ্বত্থের বিয়ে ফালাকাটা থানার মন্দির প্রাঙ্গনে ! কন্যাদান থেকে পাত পেড়ে খাওয়া কিছুই গেল না বাদ

সেইসূত্রে, সকাল থেকেই পাত্র-পাত্রীপক্ষ নিজেদের আত্মীয়স্বজন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ফালাকাটা থানার মন্দির প্রাঙ্গনে। মোট পাঁচজন পুরোহিত সহযোগে শুরু হয় বিয়ের সকালের নিয়ম-রীতির আয়োজনে। বটরুপী পাত্রের পিতা শুভব্রত দে ও অশ্বত্থ রুপী কন্যার পিতা নান্টু তালুকদার ধুতি-পাঞ্জাবি পোশাকে বসে পড়েন বিদ্ধিতে। পাশাপাশি দুই পক্ষ। শুরু হয় মন্ত্রচ্চারণ।  অপরদিকে কন্যা পক্ষের তরফে বাজনা সহযোগে স্নানের জল ভরতে যাওয়া হয় স্থানীয় মুজনাই নদীতে। ঠিক যেমন সাধারণ নর-নারীর বিয়ের নিয়ম-রীতি, সেইসব মেনেই চলতে থাকে সব। এরপর পাত্রপক্ষের আসা হলুদ মেখে কনের স্নান। সবই করানো হয় জাকজমক ভাবেই। সন্ধ্যা লগ্নে শুরু হয় বিয়ের আয়োজন।

Alipurduar News: শতাব্দী প্রাচীন বট ও অশ্বত্থের বিয়ে ফালাকাটা থানার মন্দির প্রাঙ্গনে ! কন্যাদান থেকে পাত পেড়ে খাওয়া কিছুই গেল না বাদ

অপরদিকে তখন আলোয় সেজে উঠেছে গোটা বিয়ের আসর। অতিথিরাও ধীরে ধীরে এমন অভিনব বিয়ের আসরে ভীড় জমাতে শুরু করে। শুরু হয় বিয়ের আসর। ছাদনাতলায় তখন একদিকে কন্যা দানকারী পিতা। অপরদিকে পাত্রের পিতার মন্ত্র-উচ্চারণে যেনও শুভবিবাহের অনুষ্ঠান এক অভিনব মাঙ্গলিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। হিন্দু বৈদিক মতে কন্যা সম্প্রদানের পর ছাদনাতলায় মালাবদলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বিবাহ অনুষ্ঠান। 

একদিকে যখন চলে বিয়ের আসর, অপরদিকে তখন আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নে ত্রুটি ছিল না কিছুরই। টিফিনে চা কফির পাশাপাশি প্রীতিভোজে ছিল খিচুরি, সবজি, আলু-পনির, চাটনি, পাপর ও মিষ্টি। পাশাপাশি এই প্রাচীন রীতির আবেগকে কাজে লাগিয়ে, কনে ও পাত্র পক্ষ পরিবেশ রক্ষার্থে চারাগাছ বিলি করে অতিথিদের দিলেন বার্তাও। প্রাচীন এই রীতিকে মাধ্যম করে গোটা ফালাকাটা একত্রিত হল। 

Previous post

বাংলার ৪ অফিসারের বিরুদ্ধে FIR-র নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের! সাসপেন্ড… কী ঘটেছে?

Next post

Kanchan Mullick-Sreemoyee Chattoraj photo controversy: ‘অন্যের বউয়ের ফেসবুকে গিয়ে তাঁকে ‘হট’ বলতে হবে না…’ থাইল্যাণ্ডের সমুদ্রতটে ক্ষুব্ধ কাঞ্চনপত্নী…

Post Comment

You May Have Missed