‘রাজীব কুমারকে সাংসদ করেছেন…আমাকে তো কিছু করেননি’! ‘টিকিট দিইনি’ মন্তব্যে মমতাকে রাকেশ কুমার

‘রাজীব কুমারকে সাংসদ করেছেন…আমাকে তো কিছু করেননি’! ‘টিকিট দিইনি’ মন্তব্যে মমতাকে রাকেশ কুমার

কলকাতা: এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালেন জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী তথা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজেশ কুমার। রাজেশ তাঁর কাছে টিকিট চেয়েছিলেন বলে একদিন আগে জগদ্দলের সভায় দাবি করেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেই নিয়েই মমতার বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ ঠুকলেন রাজেশ। তাঁর দাবি, মমতা তথ্য বিকৃত করে প্রচার করছেন। (Mamata Banerjee)

মঙ্গলবার প্রচারে গিয়ে রাজেশকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা। সেই নিয়েই কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন রাজেশ। এবিপি আনন্দে তিনি বলেন, “বাংলা একটা কথা আছে, চোরের মায়ের বড় গলা। ওঁর ওই অবস্থাই হয়ে আছে। ২০১৯, ২০২১, ২০২৪ সালে তিন বারই জগদ্দল আসতে হয়নি ওঁকে। এবার বুঝতে পেরেছেন জগদ্দল এবং ব্যারাকপুরের সাতটি আসনেই হারছেন। তাই এসব বলছেন। আমার পাঁচ-সাতটা এসইআর তো উনিই লিখেছেন যে আউটস্ট্যান্ডিং, নো ভিজিল্যান্স অ্যাঙ্গল, ইন্টিগ্রিটি সার্টিফিকেট, সব তো ওঁর হাতে দেওয়া। অবসরে ১৫ দিনের আগেও ক্যাটের কমপ্লায়েন্সে ইন্টিগ্রিটি সার্টিফিকেটে নাম পাঠানো হল ডিজি-র পোস্টে। কোন মুখে এসব কথা বলেন? কাকে উনি বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন? আমি এটাই বলছি যে, চোরের মায়ের বড় গলা।” (Rajesh Kumar)

তিনি কি মমতার কাছে টিকিট চেয়েছিলেন? উত্তরে রাজেশ বলেন, “আমাকে ১০ বছর পুলিশে পোস্টিং দেওয়া হয়নি। যখন রিটায়ার করলাম, সব ব্যাচমেন্টকে কিছু না কিছু দিয়েছেন। রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছেন, রণবীর কুমারকে দু’বছরের জন্য় ডিজি ট্রাফিক করেছেন, দেবাশিস রায়কে দু’বছরের জন্য ডিজি রেল করেছেন। আমাকে তো কিছু করেননি! কোন স্বপ্নে উনি ভাবছেন, আমি কিছু চাইতে যাব ওঁর কাছে! ওঁর পার্টি থেকে? যেখানে চোর ভর্তি। ওঁর দলের টিকিট চাইতে যাব? উনি ভয় পেয়ে আছেন। আমি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। যাঁরা তারকা প্রচারক হয়ে এরকম মিথ্যাচার করেন, তাঁদের উপর ব্য়ান লাগানো উচিত।”

যদিও কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “অভিযোগের কী আছে!  সঠিক নয় তো উনি বলছেন! নিশ্চয়ই কোনও ভিত্তি আছে, তাই মাননীয়া তুলেছেন। বিষয়টি সামনে চলে এসেছে বলে উনি লাফাচ্ছেন।”

জগদ্দলে দাঁড়িয়ে গতকাল নাম না করে রাজেশকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, “আমার অনেক ভুল আছে জানেন তো! এই আপনাদের এখানে যে প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছে, একে আমি দুধকলা দিয়ে তার পরেও পুষেছি। আমাকে অভিষেক মাঝে মাঝে বলে, ‘তুমি একটু কঠোর হতে পারো না? তুমি এত দুর্বল হও কেন?’ ঠিক কথা বলে।  আমার উচিত ছিল সেদিনই জেরে পুরে দেওয়া। আমি পুরিনি। একটা সুযোগ দিয়েছিলাম। সুযোগের দুর্ব্যবহার করেছে। আমি সব জানি। কোন পুলিশ পাল্টাবে, কোন পুলিশ কোথায় যাবে, কলকাঠি নাড়ছে। তোমার দিল্লিতে কত টাকা আছে, এখানে কত টাকা আছে, শিল্পসংস্থা থেকে কত টাকা নিয়েছো, তার হিসেবও কিন্তু কড়ায় গণ্ডায় আমার কাছে আছে। তুমি টিকিট চেয়েছিলে, আমি দিইনি। কেন দেব? তোমাদের মতো চোর-ডাকাতদের আমি টিকিট দিই না।” আর তার পরই কমিশনে গেলেন রাজেশ।

Post Comment

You May Have Missed