হরমুজে ফের গুলি চলল, কন্টেনার বোঝাই জাহাজে হামলার অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কি ভেস্তে যাবে?

হরমুজে ফের গুলি চলল, কন্টেনার বোঝাই জাহাজে হামলার অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কি ভেস্তে যাবে?

নয়াদিল্লি: ফের গুলি চলল হরমুজ প্রণালীতে। একটি জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। জাহাজটি কোন দেশের, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এই ঘটনায় আমেরিকার সঙ্গে ইরানের ‘শান্তি-বৈঠক’কে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধে ব্যবহৃত, আগ্নেয়াস্ত্র বোঝাই Gunboat থেকে গুলি চালানো হয় বলে খবর।

বুধবার হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ইরানের রেভলিউশনারি বাহিনীই গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। কন্টেনার বোঝাই জাহাজটি লক্ষ্য় করে গুলি ছোড়ায় এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই। বড় ধরনের কোনও বিপর্যয়ও ঘটেনি বলে জানা যাচ্ছে। ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর উপকূলীয় বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা UKMTO জানিয়েছে, সকাল ৭টা বেজে ৫৫ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। কোনও রকম ওয়ার্নিং বা সতর্কতা ছাড়াই জাহাজে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এর আগে, আমেরিকা ইরানের পতাকা লাগানো একটি জাহাজ আটক করে। সেটি চিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক নিয়ে আসছিল বলে দাবি আমেরিকার। যদিও ইরানের দাবি, তাদের কর্মী এবং কর্মীদের পরিবারবর্গ রয়েছেন জাহাজে। তাই কিছু করতে পারছে না তারা।

ইরানের তরফে সরকারি ভাবে এ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি এখনও পর্যন্ত। তবে ইরানের দুই আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা Fars এবং Tasnim হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে। ইরান হরমুজের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করছে বলেও জানায় Fars. হরমুজ দিয়ে পৃথিবীর ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। যুদ্ধের জেরে দীর্ঘ দিন ধরে সেই জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে সর্বত্রই। 

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার ‘শান্তি বৈঠক’ হওয়ার কথা আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে। আমেরিকার তরফে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। তবে ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে ইতিবাচক বার্তা আসেনি। বরং আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে বসা নিয়ে অনীহাই প্রকাশ করেছে তারা। 

সেই নিয়ে দোলাচলের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দিষ্ট সময়সীমা যদিও বেঁধে দেননি তিনি। তবে হরমুজে অবরোধও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন। এর নেপথ্যেও কৌশল দেখছে ইরান। তাদের দাবি, নতুন করে হামলা চালানোর আগে বাড়তি সময় নিচ্ছে আমেরিকা। তাই একতরফা যুদ্ধবিরতির মেয়াদবৃদ্ধির ঘোষণা করছেন ট্রাম্প।

Post Comment

You May Have Missed