Higher Secondary : ১৬ বার অস্ত্রোপচার! ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছে ডান হাত, বাঁ হাত দিয়েই উচ্চমাধ্যমিকে বাজিমাত নদিয়ার যুবকের

Higher Secondary : ১৬ বার অস্ত্রোপচার! ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছে ডান হাত, বাঁ হাত দিয়েই উচ্চমাধ্যমিকে বাজিমাত নদিয়ার যুবকের

Last Updated:

Higher Secondary : ডান হাতে বারবার অস্ত্রোপচার। তার পর এক হাত বাদ যাওয়ার পরও বাঁ হাতে লিখে সে উচ্চ মাধ্যমিক পাস। নদিয়ার যুবকের কাহিনি চোখে জল আনবে।

+

News18

শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ : ১৬ বার অস্ত্রোপচারের পর এক হাত বাদ। তার পরও বাঁ হাতে লিখে উচ্চ মাধ্যমিক পাস! শুভজিৎ হতে চায় রাজনীতিবিদ। পরিযায়ী মা-বাবাকে পেতে চায় কাছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, একের পর এক কঠিন অস্ত্রোপচার, আর্থিক সংকট, এত প্রতিকূলতার মাঝেও শিক্ষার প্রতি অদম্য জেদে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হল হরিপুর হাই স্কুলের ছাত্র শুভজিৎ বিশ্বাস। উচ্চমাধ্যমিকে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ২৬২। শুভজিতের এই সাফল্য এখন এলাকাজুড়ে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ছোটবেলা থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে বড় হতে হয়েছে শুভজিৎকে। তাঁর ডান হাতে ধরা পড়ে বোন ক্যান্সার। গত দশ বছরে ইতিমধ্যেই ১৬ বার অস্ত্রোপচার হয়েছে তার। কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু একাধিক জায়গায় চিকিৎসা করানো হলেও বর্তমানে কৃষ্ণনগরেই তার চিকিৎসা চলছে। ডান হাতের অস্ত্রোপচারের সময় কোমর থেকে হাড় কেটে হাতে বসানো হয়েছিল। ফলে বর্তমানে হাতের পাশাপাশি কোমরেও সমস্যায় ভুগছে সে। প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট রয়েছে তাঁর।

দু’বছর আগে ডান হাত কার্যত অচল হয়ে যাওয়ার পর অধিকাংশই হয়তো পড়াশোনা ছেড়ে দিত। কিন্তু শুভজিৎ হার মানেনি। রাইটার না নিয়ে বাম হাতেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে সে। গত দু’বছর ধরে নিয়মিত বাম হাতে লেখার অভ্যাস করেছে। সেই কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে পরীক্ষার ফলাফলে।

শুভজিতের পারিবারিক অবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। শুভজিৎ এর চিকিৎসা করতে গিয়ে জর্জরিত হয়ে চলে যেতে হয় রাজ্যের বাইরে বাইরে । বাবা মায়ের সাথে দেখা বলতে বছরে একবার, পুজোর সময় । শুভজিৎ থাকে মাসির বাড়িতে। শুভজিতের বাবা সেন্টারিংয়ের কাজ করেন এবং মা পরিচারিকার কাজ করেন অন্যের বাড়িতে।

দুই দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে মাসির বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে শুভজিৎ। চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১৭ থেকে ১৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ফলে আর্থিক চাপে বাবা-মা আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইছিলেন না। তবে শুভজিতের মাসি ও মেসো তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরাই বর্তমানে পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচ বহন করছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে ভবিষ্যতে পড়াশোনা করতে চায় শুভজিৎ। রাজনীতির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। চোখে মুখে রয়েছে বর্তমান রাজ্যের ক্ষমতা বদলের পর নিকট আত্মীয়দের দূরে থাকার বেদনা ভুলে কাছে পাওয়ার স্বপ্ন। তবে খরচের দিক থেকে আর পেরে উঠছেন না পরিযায়ী মা বাবা।

Previous post

Business Idea: বাড়ির রান্নাঘর থেকেই হবে অঢেল আয়, মা-ঠাকুরমার রেসিপিতেই লুকিয়ে ফর্মুলা! রইল স্টার্টআপ শুরুর সহজ গাইডলাইন

Next post

‘নো পার্কিংয়ে গাড়ি নিয়ে কড়া অবস্থান কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের’, কী বলছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ?

Post Comment

You May Have Missed