Cyber Scam: নিখোঁজ ছেলেকে ফেরাতে তন্ত্র সাধনার জিনিস চেয়ে অদ্ভুত শর্ত! স্ক্যানারে টাকা চেয়ে প্রতারণার ফাঁদ সিউড়িতে
Last Updated:
Cyber Scam: নিখোঁজ মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার শর্ত হিসেবে হরিণের দুধ, চামড়া ও নগদ টাকা দাবি। চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বীরভূমে। পোস্টারে দেওয়া নম্বর থেকে ফোন করে প্রতারণার ছক কষার ঘটনায় পুলিশের দ্বারস্থ আতঙ্কিত পরিবার।
বীরভূম, সৌভিক রায়: হারিয়ে যাওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার আজব শর্ত! বিনিময়ে দাবি করা হচ্ছে হরিণের দুধ, হরিণের চামড়া এবং তন্ত্র সাধনার নানা সামগ্রী। শুধু তাই নয়, ওই সমস্ত জিনিস জোগাড় করতে না পারলে স্ক্যানার কোড পাঠিয়ে সোজা টাকা পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছে। এই আজব ও আতঙ্কজনক ফোন ঘিরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে বীরভূমের এক পরিবারের। শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই যুবকের আতঙ্কিত পরিবার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নিখোঁজ সংক্রান্ত পোস্টার থেকে নম্বর নিয়ে এটি পুরোপুরি একটি আর্থিক প্রতারণার ছক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের সিউড়ি থানার লাঙুলিয়া এলাকার বাসিন্দা লাল্টু বাউড়ি। গত কয়েক মাস আগে তিনি তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীন ২২ বছরের ছেলে রঞ্জন বাউড়িকে নিয়ে বর্ধমানে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময়ই বর্ধমান স্টেশন চত্বর থেকে আচমকা পালিয়ে যায় ওই যুবক। ছেলেকে খুঁজে পেতে বিভিন্ন জায়গায় নিখোঁজ পোস্টার লাগান পরিবারের লোকজন। পোস্টারে দেওয়া হয় পরিবারের যোগাযোগের নম্বরও। পরিবারের দাবি, এইদিন সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে লাল্টু বাবুর ফোনে এক ব্যক্তি যোগাযোগ করে।
ফোনকারীর দাবি, হারিয়ে যাওয়া রঞ্জনকে ফিরে পেতে হলে তন্ত্র সাধনার জন্য কিছু বিশেষ সামগ্রী জোগাড় করতে হবে যার মধ্যে রয়েছে হরিণের দুধ এবং হরিণের চামড়া! ওই ফোনকারীর দাবি অনুযায়ী, তান্ত্রিক সামগ্রীগুলো জোগাড় করে দিতে না পারলে, তা কেনার খরচ বাবদ সাড়ে তিন হাজার টাকা পাঠাতে হবে। এর জন্য একটি কিউআর কোড বা স্ক্যানার কোডও পাঠিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের নম্বরে। হঠাৎ এমন অদ্ভুত দাবিতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে পরিবারের লোকজনের।
প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি প্রতারণার ফাঁদে পড়ার আশঙ্কায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। এরপরই সিউড়ি থানার দ্বারস্থ হন নিখোঁজ যুবকের পরিবার। পুরো ঘটনাটি শোনার পর পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিখোঁজ যুবকের পোস্টার থেকে ফোন নম্বর হাতিয়ে কোনও প্রতারকচক্র এই ফন্দি এঁটেছে। মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়া পরিবারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে টাকা হাতানোর জন্যই এই অভিনব প্রতারণার জাল পাতা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ।
Post Comment