ভোট-ফ্যাক্টর ‘মাছ’, ফের বিজেপিকে নিশানা মমতার, ‘কেন মিথ্যে বলছেন?’ পাল্টা অসমের মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছে ‘মাছ’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় সব সভা থেকেই বলছেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ-মাংস-ডিম খাওয়া বন্ধ। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও তাই-ই হবে। উল্টোদিকে মমতার অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বও। কোনও বিজেপি প্রার্থী মাছ হাতে ভোটপ্রচারে বেরিয়েছেন। কোনও বিজেপি নেতার আবার দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বৈব মিথ্যে কথা বলছেন। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’, আর তাই বিজেই মোটেই বাঙালির মাছ খাওয়ার বিরুদ্ধে।
এই ‘মাছ’ প্রসঙ্গেই বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপি রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ। মাছ মাংস, ডিম খাবে না তো কি আমার মাথা খাবে?’ এর পাল্টা জবাব দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও। পশ্চিমবাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ভোটপ্রচারে এসেছিলেন তিনি। হিমন্ত বলেছেন, ‘অসমের মানুষ মাছ-মাংস খায় কি না? বিজেপি আসার পর অসমে কি কেউ মাছ খাওয়া বন্ধ করেছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় কেন মিথ্যে কথা বলছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, অসমে আসুন, মাছ-মাংস খাইয়ে দেব।’
বুধবার ভোটপ্রচারে রাজ্যে এসেছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর মুখেও শোনা গিয়েছে এই ‘মাছ’ প্রসঙ্গ। স্মৃতি ইরানি বলেছেন, ‘ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন। আমি বেছে খাইয়ে দিচ্ছি।’ অন্যদিকে মাছ হাতে পয়লা বৈশাখের দিন ভোটপ্রচারে বেরিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচী। বিজেপি প্রার্থীও বলেন যে বাঙালি মাছ-ভাত খাওয়া মোটেই বন্ধ হবে না। বরং বাঙালি থাকবে মাছ-ভাতের সঙ্গে, আর বিজেপি সরকারের সঙ্গে। এর আগে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কেও কাতলা মাছ হাতে সল্টলেকের বাজারে ভোটপ্রচার করতে দেখা গিয়েছে। এই বিজেপি প্রার্থী আবার দাবি করেছিলেন যে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়লে সাধারণ মানুষ এখনকার থেকে বেশি পরিমাণে মাছ খেতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিন। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে। প্রথম দফায় ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। শেষ মুহূর্তে জোরকদ্মে ভোট প্রচারে নেমেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তাঁদের সমর্থনে আসছেন দলের তাবড় নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় নেতা-নেত্রীরাও। অভিনব কায়দায় ভোট প্রচার করে ভোটারদের মনজয় করতে উদ্যোগী সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই।



Post Comment