ভোটের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি কি প্রশাসন নিতে পারে ? কী বলছে নিয়ম ?
সুকান্ত মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা : ভোট এলেই রাস্তায় ব্যক্তি মালিকানাধীন গাড়ি নিতে দেখা যায় পুলিশকে। ভোটের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ি কি প্রশাসন নিতে পারে? রিক্যুইজিশন হাতে ধরিয়ে কি গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায়? এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কিন্তু কী বলছেন আইনজীবী থেকে প্রাক্তন পুলিশ কর্তারা ?
ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন। রাস্তায় আচমকা গাড়ি দাঁড় করিয়ে, রিক্যুইজিশন স্লিপ ধরিয়ে দিল পুলিশ। ভোট এলেই এই ছবি ধরা পড়ে। ভোটের কাজের জন্য ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি কি প্রশাসন ব্যবহার করতে পারে? নিতে হলে, নিয়ম কী ?
এ প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাস্তায় চট করে গাড়ির সামনে এসে দাঁড়িয়ে গিয়ে বলছেন এই গাড়িটি আমরা রিক্যুইজিশন করলাম এবং বিচারপতি গিরিশচন্দ্র গুপ্ত বলেছিলেন যেভাবে একটা ব্ল্যাঙ্ক ফর্ম দিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে এতে আমরা তোমার গাড়ির নম্বর নোট করে নিলাম, তোমার গাড়িটা রিক্যুইজিশন হয়ে গেল…এটা হবে না। এটা হতে পারে না। যদি করতে হয় তাহলে একটা প্রপারলি ফিলড-আপ ফর্ম আপনার বাড়িতে পৌঁছাবে। রিক্যুইজিশন চেয়ে। আপনি আপত্তি দাখিল করতে পারেন। আপনি আপত্তি দাখিল করলে ওই গাড়িটা নেওয়া যাবে না। আপনি আদালতেও আসতে পারেন।”
১৯৫১-এর জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, ভোটের কাজের জন্য প্রথমে সরকারি ও বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহার করা হয়। সেগুলো পর্যাপ্ত না হলে, ব্যক্তিগত গাড়ি নেয় প্রশাসন। ভোটের কাজে গাড়ি নেওয়ার ক্ষেত্রে জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক লিখিত নির্দেশ পাঠান। এ ক্ষেত্রে গাড়ির মালিককে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নোটিস দেওয়া হয়। গাড়ির মালিক সম্মতি দিলে, তবেই সেই গাড়ি নিতে পারে কমিশন। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়াও দেওয়া হয় গাড়ির মালিককে।
কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী দেবাশিস সাহা বলেন, ২০০৬-এ আমাদের হাইকোর্ট… বিচারপতি গিরিশচন্দ্র গুপ্ত, উনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবে গাড়ি ‘ছিনতাই করা’…এটা করতে পারে না। হাইওয়েম্যান অ্যাক্টিভিটি…এটা পরিষ্কার বলেছেন। স্পষ্ট করে বলা আছে, যার গাড়ি নেব তাঁকে নোটিস দিতে হবে। পোস্টে বা হাতেহাতে। তাঁকে যদি না পাওয়া যায়…তিনি যেখানে থাকেন সেখানে গিয়ে নোটিস লাগিয়ে আসতে হবে। একদম পরিষ্কার বলা আছে। এভাবে নেওয়া যাবে না।”
প্রাক্তন পুলিশ কর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, “১৯৫১ সালের অ্যাক্টের কথা বলছি, ১৬০ যে ধারা আছে সেখানে ভোটের জন্য দরকারে কোনও বাড়ি বা গাড়ি রিক্যুইজিশন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে। রাজ্য সরকার এটা ডেলিগেট করতে পারে। এটা ডেলিগেট করা আছে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারদের । অন্য যে ধারাগুলি আছে আইনে, তাতে এটা খুব পরিষ্কার যে এই গাড়ি ধরার কাজটা করবে যে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার, তাঁর অধীনে কোনও লোক থাকতে পারেন। কিন্তু, পুলিশদের এভাবে গাড়ি ধরতে হবে এরকম কোনও ক্ষমতা ডেলিগেট করা আছে, এব্যাপারটা আমার জানা নেই।”
ভোট যত এগিয়ে আসছে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি নিয়ে ততই বাড়ছে টানাপোড়েন।



Post Comment