ব্যবসায়ীর বাড়িতে ED তল্লাশি, ‘শ্রেয়া পান্ডের হাজব্যান্ড’, বলছেন বিজেপি-র তাপস রায়, জোর তরজা
কলকাতা: দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে কলকাতায় ফের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান। সোনা পাপ্পুর মামলায় শহরে দুই ব্যবসায়ীর ঠিকানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। আনন্দপুরে ব্যবসায়ী কল্যাণ শুক্লার ঠিকানায় ইডি-র হানাকে ঘিরে জোর তরজা শুরু হল। বিজেপি-র মানিকতলার প্রার্থী তাপস রায়ের দাবি, কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল। শ্রেয়া এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি বিষয়টি নিয়ে। (Shrreya Pande News)
রবিবার আনন্দপুর এবং আলিপুরে দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। আনন্দপুরে কল্যাণ শুক্লা এবং আলিপুরে সঞ্জয় কানোরিয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। ধৃত ব্য়বসায়ী জয় কামদারের হোয়াটসঅ্যাপ ধরেই এই তল্লাশি অভিযান বলে ইডি-সূত্রে খবর। এদিন সকালে একেবারে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে আনন্দপুরের আরবানা আবাসনে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। সেখানে ৩ নম্বর টাওয়ারের ১০২ নম্বর ফ্ল্যাটে কল্যাণ থাকেন। সেখানে তল্লাশি চালান ইডি আধিকারিকরা। নিরাপত্তায় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। (TMC vs BJP)
আরও পড়ুন: ‘বিজেপি ভয়ঙ্কর, মমতাদিদিই বাঁচাতে পারেন’, ভোটপ্রচারে এসে বললে অরবিন্দ কেজরিওয়াল
কল্যাণের বাড়িতে সমস্ত আসবাব তুলে তল্লাশি চালানো হয়। আর সেই নিয়েই বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিজেপি-র তাপস। কল্যাণের সঙ্গে শ্রেয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাপসের বক্তব্য, “ঘনিষ্ঠ নয়, শ্রেয়ার হাজব্যান্ড। আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিল হাজব্যান্ড বলে। আমি তখন তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছিলাম। প্রথম কথা হল, কলকাতা পুলিশ হোক বা সিবিআই অথবা ইডি, এই শ্রেয়া পান্ডে বা শ্রেয়া পান্ডেদের তো বাইরে থাকার কথা নয়! এই কল্যাণ কিছু দিন আগে পণের মামলা ওকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। খুনের হুমকি দিয়েছিল। নিয়েও ছিল ১০ লক্ষ টাকা। রোজভ্যালি মামলায় নাম রয়েছে, যে মামলায় জেলে ছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং স্বর্গত তাপস পাল। সেই মামলায় ১৮ এবং ১৯ নম্বর আসামি হচ্ছে শ্রেয়া এবং কল্যাণ। এরা বাইরে থাকে কেন? থাকার কথা জেলে, অথচ আছে তৃণমূলে। গ্রেফতারও হয় না, তলবও হয় না, জামিনও নেয় না। নির্বাচনে পর দেখি হাইকোর্টে তুলব আমি। সিবিআই-কেও ট্যাগ করব।”
আরও পড়ুন: ‘সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ কলকাতায় থাকবেন’, অমিত শাহকে বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
তাপসের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “মামলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। শ্রেয়া পান্ডে আমাদের মানিকতলার প্রার্থী। শ্রেয়া কিন্তু অবিবাহিত, সিঙ্গল। ফলে এই ধরনের চর্চা, স্বামী, অমুক তমুক, এগুলো অত্যন্ত রুচিবিরুদ্ধ। তৃণমূলের একের পর এক প্রার্থীকে ডাকছে। পাঁচ বছর, ছ’বছর আগের মামলা ডাকছে। মানুষ বুঝতে পারছেন যে, পাঁচ বছর ধরে যে সময় মামলা ঘুমোচ্ছিল, ভোটের সময় এসে তাদের সমন পাঠাও, ডেকে পাঠাও এবং সেই খবরগুলো খাইয়ে দাও, যাতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। কোনও ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডি গিয়ে থাকলে, তাঁরা বুঝবেন। সেই নিয়ে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করব না।”
ED সূত্রে দাবি, অবৈধ লেনদেনের সূত্র ধরে এবং ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ঘেঁটে DCP শান্তনু বিশ্বাসের পাশাপাশি দুই ব্যবসায়ী কল্যাণ শুক্লা এবং সঞ্জয় কানোরিয়ার নাম মিলেছে।
জমি সংক্রান্ত ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে গত ১৯ এপ্রিল সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারকে গ্রেফতার করে ED.



Post Comment