Salary Rule Change: ১৫ মিনিটও বাড়তি কাজ করলে… ওভারটাইমে মিলবে ডবল বেতন ?
ওভারটাইম নিয়ে নতুন নিয়ম কী?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বাভাবিক কাজের সময়ের পরে করা প্রতিটি কাজের রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক এবং এর জন্য সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে পারিশ্রমিক দিতে হবে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত প্রতি ঘণ্টা কাজের জন্য আপনি দু’ঘণ্টার সমান বেতন পাবেন। এই পরিবর্তন বিশেষ করে ব্লু-কলার কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি, কারণ তাঁদের প্রায়ই দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে হয়।
ওয়েজ কোড অনুযায়ী, সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বেশি কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে। যদিও কোম্পানিগুলো শিফটের সময় নির্ধারণে কিছুটা স্বাধীনতা পাবে (বিরতি সহ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত শিফট হতে পারে), তবুও সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টার সীমা অবশ্যই মানতে হবে।
এই নতুন নিয়মের একটি বড় আকর্ষণ হল ওভারটাইমের রাউন্ডিং-অফ ব্যবস্থা।
এখন অল্প সময়ের অতিরিক্ত কাজও গণনা করা হবে—
যদি কেউ ১৫ থেকে ৩০ মিনিট অতিরিক্ত কাজ করেন, তাহলে সেটিকে ৩০ মিনিট ওভারটাইম হিসেবে ধরা হবে
এর ফলে নিশ্চিত করা হবে যে শিফট শেষ হওয়ার পরেও যারা অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান।
নতুন নিয়মে বেতন প্রদানের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। কর্মী যদি ইস্তফা দেন (Resignation) বা চাকরি থেকে বরখাস্ত (Termination) হন ৷ তাহলে কোম্পানিকে দ্রুত তাঁর সমস্ত বকেয়া, ওভারটাইমসহ, পরিশোধ করতে হবে ৷ এর লক্ষ্য হল বিরোধ কমানো এবং সময়মতো টাকা পাওয়া নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, কোম্পানিগুলোর জন্য কাজের সময়ের সঠিক রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ওভারটাইমের পরিবর্তনের পাশাপাশি স্যালারি স্ট্রাকচারেও বড় পরিবর্তন এসেছে।
এখন কর্মীর বেসিক স্যালারি মোট CTC-র অন্তত ৫০% হতে হবে।
এর ফলে: প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং গ্র্যাচুইটি (Gratuity)-তে অবদান বাড়বে
ফলে ইন-হ্যান্ড বা টেক-হোম স্যালারি কিছুটা কমতে পারে
তবে এর একটি বড় সুবিধা হল ভবিষ্যতে আপনি আরও ভাল রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পাবেন।
এই নিয়মের প্রভাব কর্মীদের ওপর ভিন্নভাবে পড়বে।
ব্লু-কলার কর্মীরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন
ওভারটাইমের স্পষ্ট নিয়ম
ডাবল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক
মাসিক আয় বাড়ার সম্ভাবনা
হোয়াইট-কলার কর্মীদের লাভ সীমিত
অনেক কর্পোরেট চাকরিতে ওভারটাইম পে প্রযোজ্য নয়
তবে PF বৃদ্ধির ফলে রিটায়ারমেন্ট সেভিংস বাড়বে
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শ্রম আইন (Labour Code) রাজ্যভিত্তিকভাবে প্রয়োগ করা হয়। কেন্দ্র সরকার কাঠামো তৈরি করলেও, বাস্তবে এটি কবে কার্যকর হবে তা নির্ভর করে রাজ্য সরকার কবে এই নিয়মগুলো গ্রহণ ও নোটিফাই করে।
রাজ্যগুলো প্রয়োজনে নিজস্ব নিয়মও নির্ধারণ করতে পারে, যেমন—
ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ওভারটাইমের সীমা
সাধারণত ৩ মাসে ১২৫ থেকে ১৪৪ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজের সীমা নির্ধারণ করা হয়
এই নতুন ওয়েজ কোড কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তাকেও আরও শক্তিশালী করবে।



Post Comment