‘২৯ এপ্রিলের আগে দেশ না ছাড়লে…’

‘২৯ এপ্রিলের আগে দেশ না ছাড়লে…’

ঠাকুরনগর: ভোটের শেষবেলাতেও তুঙ্গে অনুপ্রবেশ-তরজা। অনুপ্রবেশকারীরা ২৯ এপ্রিলের আগে দেশ না ছাড়লে, ৪ মে-র পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের উৎখাত করা হবে। মতুয়া-গড় ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে একেবারে ডেডলাইন বেঁধে ওয়ার্নিং দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য যারা ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দিচ্ছে,  তাদের শিক্ষা দিন। নির্বাচনী সভা থেকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এদিন ঠাকুরনগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা অবৈধ উপায়ে বাংলায় ঢুকেছে, যারা ভুয়ো নথি দেখিয়ে এখানে থাকছে, তারা যেন ২৯ এপ্রিলের আগে বাংলা আর হিন্দুস্তান ছেড়ে চলে যায়। যারা প্রকাশ্যে CAA-র বিরোধিতা করে, যে CAA-কে হঠানোর কথা বলে, তারা কি আপনাদের ভাল চাইতে পারে? যদি কেউ ভুল করেও তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবে, তাহলে তিনি নিজের পূর্বপুরুষের মনে দুঃখ দেওয়ার কাজই করবেন। চৌঠা মে-র পর প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে উৎখাত করা হবে। তৃণমূল কোনও অনুপ্রবেশকারীকে বাঁচাতে পারবে না।’

২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে শেষ রবিবাসরীয় প্রচার। মেগা সানডে-র মহাপ্রচারে এসে মতুয়াগড়ে দাঁড়িয়ে ফের অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের দেশ ছাড়ার ওয়ার্নিংও দিলেন তিনি।

এদিনের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি আরও বলেন, ‘কলকাতা থেকে জয়ী হয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তখন ২৪ পরগনা, নদিয়া অনেক সমর্থন পেয়েছিল জনসঙ্ঘ। পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের কথা বলেছিল। শরণার্থীদের প্রবক্তা মনে করা হয় শ্যামাপ্রসাদকে। দেশভাগ থেকে আজ পর্যন্ত সব শরণার্থীরা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের চিন্তা করা ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলব, আপানদের নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, কাগজ দেওয়া হবে। সব অধিকার দেওয়া হবে, যা ভারতের সব নাগরিকেরা পান, এটা মোদীর গ্যারান্টি।’

তৃণমূল যখন SIR-এর নামে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলছে, তখন অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে তৃণমূলকে এক সারিতে ফেলে নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে অমিত শাহর মুখে ফের শোনা গেছে “চুন চুনকে” শব্দবন্ধ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ভাজপা সরকার আনুন, অনুপ্রবেশকারীদের চুন চুন করে তাড়ানোর কাজ করবে। দিদি বলছেন, SIR করে অনুপ্রবেশকারীদের নাম কেন কাটা হচ্ছে? ৪ তারিখ ভাজপা সরকার আসতে চলেছে, ভাজপা সরকার। এখন তো শুধু ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হয়েছে, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুধু ভোটার তালিকা থেকে নয়, বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের চুন চুন করে বের করে দেওয়া হবে।’

SIR থেকে অনুপ্রবেশ! একেবারে শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম ইস্যু! হাইভোল্টেজ নির্বাচনের স্লগওভারে পৌঁছেও, সেই ইস্যু এখনও ফ্রন্টিয়ারে।

Previous post

Mamata Banerjee: ‘এখানের পুলিশও বিজেপির লোক, আমাকে ভুলে গেছে’, খিদিরপুরের সভা থেকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নেত্রী মমতার

Next post

নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে আরোহণ, আচমকা ফুঁসে উঠল আগ্নেয়গিরি, তার পর…ভিডিও ভাইরাল

Post Comment

You May Have Missed