‘বিজেপি ভয়ঙ্কর, মমতাদিদিই বাঁচাতে পারেন’, ভোটপ্রচারে এসে বললে অরবিন্দ কেজরিওয়াল
কলকাতা: রাঘব চাড্ডা-সহ সাত সাংসদের দলবদল নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতি। সেই পরিস্থিতিতেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের হয়ে প্রচারে এলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে তিনি দেশ বাঁচাতে, কষ্টার্জিত স্বাধীনতা বাঁচাতে ভোট দেওয়ার আর্জি জানালেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘মিথ্যেবাদী’ বলে আক্রমণও করলেন। (Arvind Kejriwal Campaigns for TMC)
রবিবার বালিগঞ্জে শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের প্রচারসভা উপস্থিত ছিলেন কেজরিওয়াল। সেখানে বাংলাতেই বক্তৃতা শুরু করেন তিনি। জানান, খড়গপুর আইআইটি-তে পড়ার দরুণ বাংলা শিখেছেন অল্প। জানান, তিনি বাংলাকে যেটুকু বুঝেছেন, দেখেছেন, তা থেকে বলতে পারেন, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহরা বাংলার সংস্কৃতি বোঝেন না। বাংলার উপর হামলা হলে, বাঙালি মজা দেখাতে জানেন। (TMC News)
আরও পড়ুন: ‘সৎ সাহস থাকলে ৪ তারিখ কলকাতায় থাকবেন’, অমিত শাহকে বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
পশ্চিমবঙ্গের এবারের বিধানসভা নির্বাচনকে ‘দেশের লড়াই’ বলেও উল্লেখ করেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, “এটা কোনও সাধারণ নির্বাচন নয়। আপনারা দেশের জন্য লড়াই করছেন। বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, বামের নির্বাচন নয়। এটা দেশ বাঁচানোর নির্বাচন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলা থেকেই সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ বিসর্জন দেন। আজ সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার লড়াই। গোটা দেশ এই মুহূর্তে বাংলার দিকে তাকিয়ে। আমি দিল্লি থেকে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, যাতে সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসুর মতো আগামী দিনে যখন ইতিহাস লেখা হবে, তাতে আপনাদের লড়াইয়ের কথা থাকবে। পাশাপাশি, উল্লেখ থাকবে যে কেজরিওয়ালও একদিন সেই লড়াইয়ে অংশ নিতে এসেছিলেন।”
বালিগঞ্জে দাঁড়িয়ে মোদিকে তীব্র আক্রমণ করেন কেজরিওয়াল। বলেন, “গোটা দেশে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন মোদিজী। দেশে ঘৃণা ছড়িয়েছেন, দেশকে বরবাদ করে দিয়েছেন। বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, অশান্তি লেগে রয়েছে। যেখানেই যান সুরক্ষা নেই। সোশ্যাল মিডিয়া মিমে ভরে গিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প রোজ গালি দেন। তাঁর সামনে মুখ থেকে কথা বেরোয় না মোদিজীর। কাঁপতে শুরু করেন। এত কাপুরুষ প্রধানমন্ত্রী দেখেনি দেশ। নির্বাচনে জেতা মুশকিল হয়ে গিয়েছে মোদি-শাহের। তাই ষড়যন্ত্র রচনা করলেন যে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দাও, ভুয়ো লোক ঢোকাও। বাংলার ২৭ লক্ষের নাম কেটে দিয়েছে। এই সংখ্যাটা কম নয়। বিজেপি-কে ভোট দিলে ওই ২৭ লক্ষের কী হবে, ভগবানই জানেন। শুধু মমতাদিদি বাঁচাতে পারেন। বিজেপি ভয়ঙ্কর। যাঁদের নাম কেটেছে, তাঁরা কোনও সরকারি সুবিধা পাবেন না, রেশন কার্ড বাতিল। তাই বাদ যাওয়া ২৭ লক্ষকে বলব, ঘরে ঘরে তৃণমূলের কর্মী হয়ে যান। মমতার সমর্থনে ভোট এলে তবেই জীবন বাঁচবে। বিজেপি এলে শেষ করে দেবে সব।”
আরও পড়ুন: ‘প্রথম দফাতেই দর্প চূর্ণ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের, দ্বিতীয় দফায়…’, মতুয়াগড়ে বললেন মোদি
পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার ঢোকানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন কেজরিওয়াল। বলেন, “এভাবে ভোটে জিততে চান মোদিজী। কারণ সততার সঙ্গে হলে জিতে পারবেন না। মোদিজীর তিন ইয়ার- ইডি, সিবিআই, জ্ঞানেশ কুমার। এত বেইমানির পর…গোটা দেশ থেকে আর্মি এনেছে। কী প্রয়োজন? বাংলার লোক কি সন্ত্রাসবাদী? বাংলার মানুষকে অপমান করছেন। ২.৫ লক্ষ সেনা নামিয়েছে বাংলায়। এভাবে জিততে চান। ইডি, সিবিআই, জ্ঞানেশ কুমারকে লাগিয়েছে। ইডি, সিবিআই, জ্ঞানেশ কুমারকে লাগিয়ে দিয়েছে। তার পরও যদি হেরে যান, বাংলার মানুষ জানতে চান, ইস্তফা দেবেন তো মোদিজী? ইডি, সিবিআই, জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশন, বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সবাই ঘুরছেন। এত লোক কেন? এক দিদিকে হারাতে। খাটো চেহারার এক মহিলা। কিন্তু হাঁটেন বেশ জোরে। এক নারী, সব পে ভারী। একা সবাইকে হারিয়ে দেন। এক বছর আগে, দিল্লিতে নির্বাচনের সময় আমার নামে মিথ্যে ঘুষের মামলা দিয়েছে, জেলে রেখেছে ছ’মাস। আদালত রায় দিয়েছে, কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই। কেজরিওয়াল সৎ, দুর্নীতি করেননি। মিথ্যে মামলা দিয়ে, জেলে ঢুকিয়ে দিল্লি দখল করেছে। যত ভাল কাজ করেছিলাম, সব বন্ধ করে দিয়েছে। গত এক বছরে পস্তাচ্ছেন দিল্লিবাসী।”
রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মমতার আমলের সব প্রকল্প চালু থাকবে বলে বিজেপি নেতৃত্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, দিল্লিতেও মহিলাদের ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এক বছর হয়ে গিয়েছে। এখনও দেয়নি। কেজরিওয়ালের কথায়, “সবচেয়ে মিথ্য়েবাদী প্রধানমন্ত্রী। শুধু মিথ্যে বলেন। আমি দিল্লি থেকে এসেছি। বিশ্বাস করবেন না। এখন বলছে ৩০০০ টাকা দেবে। দেবে না। ওখানে সিলিন্ডার দেবেও বলেছিল। দেয়নি। দিদি বাংলার জন্য, দেশের জন্য লড়ছেন। সবাইকে বলব, এটা দলের নির্বাচন নয়, দেশ-গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। দিদিকে ভোট দিন।”



Post Comment