পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় ইডির হানা!

পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় ইডির হানা!

West Bengal

-Ritesh Ghosh

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার সাতসকাল থেকেই কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মোট আটটি ভিন্ন জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান করেন তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অভিযানের তালিকায় রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক বাসস্থান।

তদন্তকারী দলটির একটি বড় অংশ এদিন কামারহাটির বিধায়কের বিভিন্ন ঠিকানায় হানা দিয়েছে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, মদন মিত্রের ভবানীপুর, কালীঘাট, জোকা এবং দক্ষিণেশ্বরের বাড়িগুলিতে ইডির আধিকারিকরা পৌঁছে গিয়েছেন। সকাল ছ’টা নাগাদ ভবানীপুরের ফ্ল্যাটে যখন আধিকারিকরা প্রবেশ করেন, তখন বিধায়ক সপরিবারে সেখানেই ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী বর্তমানে ওই আবাসন ঘিরে রেখেছে।

ED officials conducting raids at Madan Mitra s residence

ইডি সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুরসভা নিয়োগে বড়সড় গরমিলের অভিযোগে ২০২৩ সালের ২০ মার্চ অয়ন শীল নামক এক প্রোমোটারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর নিজস্ব সংস্থার বিরুদ্ধে রাজ্যের অন্তত সাতটি পুরসভায় বেআইনিভাবে কর্মী নিয়োগের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। ধৃত অয়নের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথির ওপর ভিত্তি করেই মদন মিত্রের বাড়ি ও দফতরে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

অভিযুক্ত অয়নের সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কামারহাটি সহ বিভিন্ন পুরসভায় টাইপিস্ট এবং গ্রুপ ডি পদের মতো বিভিন্ন স্তরের কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব পেয়েছিল। পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ওএমআর শিট ছাপানো থেকে শুরু করে ইন্টারভিউ নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি তারাই নিয়ন্ত্রণ করত। অভিযোগ উঠেছে, এই নিম্নস্তরের কর্মী নিয়োগের আড়ালে কোটি কোটি টাকার আর্থিক আদানপ্রদান হয়েছে।

যে সাতটি পুরসভা স্ক্যানারে রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল কামারহাটি পুরসভা। কামারহাটির স্থানীয় বিধায়ক হওয়ার সুবাদে এই বেআইনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মদন মিত্রের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলার তদন্তের স্বার্থেই কয়েকদিন আগে কামারহাটি পুরসভার জনৈক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বাড়িতেও জোরদার তল্লাশি চালিয়েছিলেন গোয়েন্দারা।

শনিবার সকালে ইডির এই বিশাল অভিযান শুধুমাত্র তৃণমূল বিধায়কের বাসভবনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তদন্তকারীরা এদিন কলকাতার বেলেঘাটা এবং বেহালার একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় হানা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি, সন্তোষপুর এলাকার একটি ক্লাবেও ইডির গোয়েন্দারা তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি এলাকাতেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, পুরসভা নিয়োগ মামলাটি মূলত শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীনই সামনে আসে। অয়নের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বহু ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র ঘেঁটে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে টাকার বিনিময়ে বহু অযোগ্য মানুষকে পুরসভার চাকরিতে বহাল করা হয়েছিল। এই চক্রে প্রভাবশালী যোগসূত্র খুঁজতেই তল্লাশির পরিধি বাড়ানো হয়েছে।

তদন্তকারীরা মূলত জানার চেষ্টা করছেন, চাকরিপ্রার্থীদের থেকে তোলা বিপুল পরিমাণ টাকা কার কার পকেটে গিয়েছে। দুর্নীতির লভ্যাংশ কি কোনও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার কাছে পৌঁছেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কামারহাটির বিধায়ককে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর ফোন রেকর্ড ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।

Previous post

Weather Update: মৌসুমী বায়ুর আগমনে রোদের দাদাগিরি শেষ, এই কয়েকদিন ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাবে আবহাওয়া! রইল IMD’র লেটেস্ট আপডেট

Next post

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের আচমকা হানা! গভীর রাতে তালা ভেঙে তল্লাশি, নেপথ্যে কোন কারণ?

Post Comment

You May Have Missed