অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের আচমকা হানা! গভীর রাতে তালা ভেঙে তল্লাশি, নেপথ্যে কোন কারণ?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুলিশের আচমকা হানা! গভীর রাতে তালা ভেঙে তল্লাশি, নেপথ্যে কোন কারণ?

West Bengal

-Ritesh Ghosh

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে অতর্কিত তল্লাশি অভিযান চালাল মেদিনীপুরের শালবনী থানার পুলিশ। শনিবার কাকভোরে এই অতর্কিত পুলিশি অভিযানকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতার আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের খুঁজতেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

তল্লাশি অভিযানের সময় শালবনী থানার উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়ির সদর দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। সেই মুহূর্তে বাইরে পটুয়াপাড়ার গোটা এলাকা কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। এই অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করলেও আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার বার্তা দেন।

Police conducting a search at Abhishek Banerjee s residence

এই তল্লাশি অভিযান ও পুলিশের আচরণ প্রসঙ্গে তৃণমূলের প্রভাবশালী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “তালা ভেঙে ঢুকে গোটা বাড়ি ওরা তল্লাশি করেছে। সব রেকর্ড রয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা করেছি।”

পুলিশ সূত্রে তদন্তের পটভূমি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গিয়েছে। মেদিনীপুরের শালবনী এলাকার এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই নেতার করা অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, গত নির্বাচনে দলের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সুমিত রায় তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে তছরুপ করেছেন।

এই গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই শালবনী থানার পুলিশ অভিযুক্ত সুমিত রায়ের খোঁজ শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করেন পুলিশ আধিকারিকরা। অবশেষে ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা যায়, তাঁর বর্তমান ফোনের লোকেশন কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিকানাতেই দেখাচ্ছে।

ফোন লোকেশনের এই সুনির্দিষ্ট এবং অকাট্য তথ্য পাওয়ার পরেই শালবনী থানার একটি অত্যন্ত সুসজ্জিত ও বিশাল পুলিশবাহিনী তৎক্ষণাৎ কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গভীর রাতে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বা ডিএসপির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে শালবনী থানার আধিকারিকরা কালীঘাট থানায় এসে পৌঁছন। তখন ঘড়ির কাঁটায় সময় ছিল আনুমানিক রাত আড়াইটে। বিধি মেনে তল্লাশির আগে থানায় একটি ডায়েরি দায়ের করা হয়।

কালীঘাট থানায় প্রয়োজনীয় আইনি জেনারেল ডায়েরি বা জিডি করার পর ভোর তিনটে নাগাদ শালবনী থানার পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দারা সোজাসুজি কালীঘাটে পৌঁছন।

অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছে পুলিশ কর্তারা ভিতরে থাকা সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করেন। পটুয়াপাড়ার ওই বাসভবনের সদর দরজায় বহুবার কড়া নাড়া হলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। এরপরই, পুলিশ আধিকারিকরা নিয়মকানুন মেনেই সেখানে শেষ পর্যন্ত বাড়ির দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন।

এরপরে গোটা বাড়ি জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চলে। সুমিত রায়ের খোঁজে প্রতিটি ঘর ও গুরুত্বপূর্ণ নথি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ করে সকাল সাতটার পরে শালবনি থানার পুলিশবাহিনী চলে যায়। ওদিকে এই তল্লাশির খবর পাওয়া মাত্রই নিজের পটুয়াপাড়ায় অভিষেকের বাসভবনে এসে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ ভিতরে থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলেই তিনি চলে যান।

Post Comment

You May Have Missed