ন্যাড়া মাথায় সেরেছেন প্রচার,শোনেননি ডাক্তারের নির্দেশ,প্রতিজ্ঞা পূরণ করে ফের চুল গজাবেন কৌস্তভ
ব্যারাকপুর: পশ্চিমবঙ্গের রং এবার গেরুয়া। বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়জয়কার। সাতাত্তর থেকে সোজা সিংহাসনে নরেন্দ্র মোদির দল। অন্য়দিকে একাধিক জেলায় খাতা খুলতে পারল না তৃণমূল। গেরুয়া ঝড় গা ভাসিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনাও। সেখানে ব্যারাকপুর বিভানসভা কেন্দ্রে (WB Election Results 2026) রাজ চক্রবর্তীকে ১৫৮২২ ভোটো হারিয়ে জয়ী হলেন কৌস্তভ বাগচী (Kaustuv Bagchi)। আর কৌস্তভ জেতাতেই উঠে এল তাঁর মাথার চুলের প্রসঙ্গ।
২০২৩ ৩ মার্চ গভীর রাতে কৌস্তভের বাড়িতে পুলিশ হানা দেয় এবং তারপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরেই ৪ মার্চ জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মাথা কামিয়ে ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন শোয়ে এসে কৌস্তভ জানিয়েছিলেন, ‘চুল অত্যন্ত প্রিয়, চুল নিয়ে আমি ভীষণই পজেসিভ ছিলাম। চাইব এই চুলটা দ্রুতই গজাক। তবে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এই চুল ততদিন গজাবে না যতদিন না এই রাজ্যের শাসকদল উৎখাত হচ্ছে।’
অবশেষে সেই দিনটার ঠিক ৩৮ মাসের মাথায় বঙ্গে নবো সূর্যদয় ঘটল। পরাজিত হলেন মমতা বন্দোপাধ্যায় তথা তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর প্রতিজ্ঞা মতো এবার কী তাহলে আবার মাথায় চুল গজাবেন কৌস্তভ? ব্যারাকপুর বিভানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে জয়ের পর সন্ধ্যায় ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন শোয়ে কৌস্তভ জানান অনেক মশকরা, হাসিঠাট্টা সয়ে, এমনকী ডাক্তারের পরামর্শ উপেক্ষা করেও তিনি এতদিন চুল গজাতে দেননি, খালি মাথাতেই সেরেছেন প্রচারও।
আরও পড়ুন:- বাংলায় গেরুয়া ঝড়, শেষমেশ কয়টি আসন জিতল বিজেপি? তৃণমূলের দখলে গেল কয়টি বিধানসভা?
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ তিন বছর, যখন বিয়ে করেছিলাম, তখনও চুল ছিল না। আমার স্ত্রী, বাবা, মা সবসময়ই আমায় সাপোর্ট করেন, তবে তাঁরাও বিয়ের সময় বলেছিলেন এই বিষয়টা কী একবার ভেবে দেখা যায় না! তবে আমি বলেছিলাম আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, পিছিয়ে আসার কোনও জায়গাই নেই। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যতদিন না এই রাজ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার উৎখাত হবে ততদিন চুল গজাবে না। আমি কিন্তু তখন জানতাম না যে দুই বছরে বদল হবে। তবে এই ত্যাগের মাধ্যমে এই ব্যাভিচারী সরকারের বিরুদ্ধে লড়ব বলে আমি নিজেকে আরও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ করে তুলেছি। অনেক সময়ই আমি রোদে বা ঠান্ডায় মাথায় পাগড়ি বেঁধে রাখি। তবে এই গোটা ইলেকশন ক্যাম্পেনে আমি কিচ্ছু চাপায়নি। এর জন্য আমার প্রচুর শরীরও খারাপ হয়েছিল। ভোটের সময়ই আমার জন্ডিস হয়, তার মধ্যেই আমি প্রচার চালাই। ডাক্তাররা আমায় স্পষ্টভাবে মানা করেছিল যাতে আমি মাথাটা খুলে না রাখি। তাও মাথায় কিছু বাঁধিনি। সাধারণ মানুষও বহু জায়গায় বলেছে যে এমন মাথা খুলে রাখবেন না। তবে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম যে প্রচারের সময় আমি মাথায় কিছু বাঁধব না।’
কৌস্তভ এও জানান তিনি ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরে তাঁর পাড়ার সেলুনে চুল কাটতে গেলে সাধারণ মানুষজন তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে ৪ মের পর আর চুল কাটার প্রয়োজন হবে না। আর তাঁদের দেওয়া আশ্বাস এবার বাস্তবে রূপান্তরিত হল। তিনি আশাবাদী যে এবার তিনি চুল গজাতে পারবেন। ‘গণনাকেন্দ্রে যখন আসি তখন ১০০ শতাংশ আশাবাদী ছিলাম যে সরকারও হবে এবং আমি জিতব। শেষমেশ আমি জিতলাম আর আমায় এবার হয়তো আর চুল কাটতে হবে না। আমার প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী আমায় আর চুল কাটতে হবে না। এটার মধ্যে অনেক তির্যক মন্তব্য, অনেক মশকরা, অনেক হাসিঠাট্টা শুনতে হয়েছে।’ বলেন ব্যারাকপুরের হবু বিজেপি বিধায়ক।
ছেলে প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবে খুশি কৌস্তভের বাবা, মা, খুশি তাঁর স্ত্রী প্রীতিও। ‘প্রীতি খুব খুশি, এখন থেকেই চুলের কীভাবে পরিচর্যা করা হবে, চিন্তাভাবনা করছে। আমার আসলে চুলটা খুব সখের ছিল। আমি যখন আত্মত্যাগ করেছিলাম, তখন মাথায় চলছিল আমার খুব প্রিয় কিছু জিনিস কিছুই ত্যাগ করব। সেখান থেকেই চুলের ভাবনাটা আসে। আমি আগেই বলেছিলাম যে আমি চুলের বিষয়ে খুব পজেসিভ। তাই আজ প্রীতি খুব খুশি। বাড়িতে মা, বাবা সকলেই খুব খুশি।’ জানান কৌস্তভ।



Post Comment