ইসলামাবাদে ‘শান্তি-বৈঠকে’ যোগ দিতে পারেন খোদ ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে তো?
নয়াদিল্লি: ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফায় ‘শান্তিবৈঠক’ হওয়ার কথা। সব ঠিক থাকলে সেখানে পৌঁছতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার তরফে তিনি খোদ বৈঠকে অংশ নিতে পারেন বলে খবর। এমনকি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ট্রাম্প নিজে তাতে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। (Donald Trump Islamabad Visit)
ইসলামাবাদে ‘শান্তি-বৈঠকে’ যোগ দেবেন কি ট্রাম্প?
পাকিস্তানের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই খবর সামনে এনেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। তারা জানিয়েছে, ট্রাম্প সশরীরে ইসলামাবাদের বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেও বৈঠকে অংশ বনিতে পারেন তিনি। ২২ এপ্রিল রাত ৮টায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেকার দুই সপ্তাহব্যাপী সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। তার আগে শান্তিচুক্তি হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। (US-Iran War)
ইরান কি সমঝোতায় রাজি হবে?
পাকিস্তানেই যে দ্বিতীয় দফার ‘শান্তিবৈঠক’ হতে চলেছে, তাতে সিলমোহর দিয়েছে আমেরিকাও। তবে ইরান ওই বৈঠকে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে দোলাচল রয়েছে। সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের পতাকা লাগানো একটি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী। চিন থেকে সেটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির রাসায়নিক নিয়ে আসছিল বলে দাবি আমেরিকার। যদিও ইরানের দাবি, জাহাজে তাঁদের কর্মী ও পরিবারবর্গ রয়েছেন। তাঁরা না থাকলে আমেরিকাকে উচিত জবাব দিতে পিছপা হতো না বলেও জানিয়েছে তেহরান।
সমঝোতা নিয়ে কেন একমত হতে পারছে না দুই দেশ?
আর ওই জাহাজ বাজেয়াপ্ত করা নিয়েই ইসলামাবাদের ‘শান্তি -বৈঠকে’ যোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা-ই দেখার। তবে এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে দুই তরফেই একাধিক শর্তাবলী নিয়ে আপত্তি রয়েছে। ট্রাম্প চান, এমন চুক্তি হোক, যাতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে, শেয়ার বাজারেও প্রভাব পড়বে না তেমন। ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দিতেও নারাজ তিনি। অন্য দিকে, ইরান হরমুজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখতে বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম মজুত রাখা, নাগরিকদের স্বার্থে পরমাণু প্রকল্পও বন্ধ করতে নারাজ তারা।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতায় মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। অতি সম্প্রতিই আমেরিকার বার্তা নিয়ে মস্কৌ পৌঁছন পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির। কিন্তু ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে যায়। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বোঝাপড়া হয়নি সেখানে। এর পরও দ্বিতীয় দফায় ‘শান্তি-বৈঠকে’র আয়োজন করছে তারা। এই মুহূর্তে ইসলামাবাদে ২০০০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মঙ্গলবার ইসলামাবাদ পৌঁছতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।



Post Comment