Success Story: উচ্চ মাধ্যমিকের পর জেদের বশে কেনা গিটারেই বাজিমাত, গানের টানে ছেড়েছেন মোটা মাইনের চাকরি! শিল্পীকে চিনুন
Last Updated:
Success Story: সংসারে অভাব, ছিল না গান শেখার পরিবেশ! পড়াশোনার মাঝেই জেদ করে গিটার কিনে নিজের ভাগ্য বদলে দিলেন খড়্গপুরের নয়ন সিংহ। বাদ্যযন্ত্রের দোকান ও সংগীত চর্চাকে সম্বল করে স্বনির্ভরতার অনন্য উদাহরণ গড়েছেন তিনি। জানুন তাঁর লড়াইয়ের গল্প।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর , রঞ্জন চন্দ: নিম্ন মধ্যবিত্ত সংসারে গান-বাজনার বিশেষ চল ছিল না। বাবার মুখে মাঝেসাঝে কীর্তন শুনলেও, পড়াশোনা শিকেয় ওঠার ভয়ে পরিবারে সঙ্গীত শিক্ষার সুযোগ মেলেনি। গ্রামের চেনা ধারণার বাইরে গিয়ে মনের ভেতরে পুষে রাখা সুরের টানটাই শেষ পর্যন্ত বদলে দিল জীবন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বাড়িতে একপ্রকার রাগ ও জেদ করেই কিনে ফেলেছিলেন একটি গিটার। সেই জেদের বশে কেনা বাদ্যযন্ত্রই ঘুরিয়ে দিল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের ওয়ালিপুরের বাসিন্দা নয়ন সিংহের জীবনের মোড়। আজ তিনি শুধু একজন দক্ষ গিটারিস্ট নন, এলাকার সুপরিচিত সঙ্গীতশিল্পীও বটে।
শুরুর পথটা মোটেই মসৃণ ছিল না নয়নের কাছে। বাড়িতে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নানা টানাপড়েন থাকলেও সুরের সাধনা থামাননি। প্রাথমিকভাবে সমাজমাধ্যমের ভিডিয়ো দেখে গিটার হাতে বিদেশি শিল্পীদের পরিবেশনা অনুপ্রেরণা জোগায় তাঁকে। ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে আঙুলের টান নিখুঁত করার পাশাপাশি স্থানীয় গুরুর কাছে নেন সঙ্গীতের প্রথাগত পাঠ। তবে গিটার হাতে দক্ষতা বাড়লেও হারমোনিয়ামের অভাব দীর্ঘ দিন অনুভব করেছেন। অবশেষে নানা দিক থেকে অর্থ সঞ্চয় করে কেনেন সাধের হারমোনিয়াম, শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ রেওয়াজ।
আজ থেকে প্রায় এক দশক আগে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ এক স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেছে। বাঁকুড়ার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের সূচনা হলেও দূরত্বের কারণে তা বেশি দিন টেকেনি। পরে খড়্গপুরে ফিরে এসে শিক্ষকতা এবং এক সময় কর্পোরেট জগতের টানাপড়েনে জড়ালেও শেষ পর্যন্ত সঙ্গীতের ডাককেই অগ্রাধিকার দেন নয়ন। পেশাগত অনিশ্চয়তাকে উপেক্ষা করে বাড়ি সংলগ্ন চত্বরেই গড়ে তুলেছেন বাদ্যযন্ত্রের নিজস্ব বিপণি। দোকান পরিচালনা এবং সঙ্গীত চর্চা, এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই আজ সংসার টানছেন তিনি।
কেবল মুখ গুঁজে পুঁথিগত পড়াশোনা নয়, সঙ্গীতের মধ্যেও যে বেঁচে থাকার আসল ছন্দ আর আত্মিক শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন নয়ন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জেদ ধরে শুরু করা সেই একরোখা কিশোরের পদক্ষেপ আজ নতুন প্রজন্মের কাছে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। তাঁর সৃষ্টিশীল উদ্যোগ আর সুরের নেশা খড়্গপুরের শিল্পমহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে সঙ্গীতকে জীবিকা ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার এই লড়াইয়ে আজ সফল ওয়ালিপুরের এই সুরসাধক।
Post Comment