দিনের আলোয় গঙ্গা থেকে বালি চুরি উত্তরপাড়ায়! গ্রেফতার ২, ৪ হাজার ঘনফুট বালি বাজেয়াপ্ত
Last Updated:
পুলিশের দাবি, শিবমন্দির ঘাট এবং দুটি ইটভাটা থেকে একটি নৌকা ও প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সাদা বালি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভাটার সময় গঙ্গার তীর থেকে ওই বালি তোলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
উত্তরপাড়া, সোমনাথ ঘোষ: দিনের আলোয় গঙ্গা থেকে অবাধে বালি তোলার অভিযোগ উঠল উত্তরপাড়ায়। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিবমন্দির ঘাট এবং দুটি ইটভাটা থেকে একটি নৌকা ও প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সাদা বালি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ, উত্তরপাড়া শহরের বুকে গঙ্গা থেকে নৌকায় করে বালি তুলে আনা হচ্ছিল। পরে ছোট গাড়িতে করে সেই বালি অন্যত্র পাচার করা হচ্ছিল। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এর আগে সংবাদমাধ্যমে খবর সম্প্রচারের পর পুলিশ তৎপর হয়ে বালি তোলা বন্ধ করেছিল বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু ফের কীভাবে বালি তোলা শুরু হল, আর কার মদতেই বা এই কারবার চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয় পুলিশ। উত্তরপাড়া থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুন্দন সাহানী ও লক্ষ্মণ সাহানী নামে দু’জনকে গ্রেফতার করে। গঙ্গা থেকে সাদা বালি তোলার অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, শিবমন্দির ঘাট এবং দুটি ইটভাটা থেকে একটি নৌকা ও প্রায় ৪ হাজার ঘনফুট সাদা বালি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভাটার সময় গঙ্গার তীর থেকে ওই বালি তোলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ধৃতেরা জেরায় জানিয়েছেন, বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করার উদ্দেশ্যেই গঙ্গার তীর থেকে বালি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় উত্তরপাড়া থানায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ধৃতদের আজ শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের সন্ধান এবং বালি তোলার সঠিক স্থান চিহ্নিত করতে ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এদিকে, এই ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে এখন যখন জেনেছি, এরপর থেকে আগামী পাঁচ বছর আর এসব হতে দেব না। আমি পুলিশকে বলেছি, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে। উত্তরপাড়া থানার উপর আস্থা আছে।”
বিধায়কের আরও দাবি, বালি তোলার কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা একসময় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Post Comment