RBI-এর ‘মাস্টারপ্ল্যান’, আসছে ‘কিল সুইচ’, পেমেন্ট বাতিলের বিশেষ সুবিধা

RBI-এর ‘মাস্টারপ্ল্যান’, আসছে ‘কিল সুইচ’, পেমেন্ট বাতিলের বিশেষ সুবিধা

Digital Payment New Rule : ডিজিটাল লেনদেনের যুগে আঙুলের এক ক্লিকেই টাকা আদান-প্রদান যেমন সহজ হয়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার জালিয়াতি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে এবার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। জালিয়াতি রুখতে ‘কিল সুইচ’ এবং ‘ল্যাগড ক্রেডিট’-এর মতো একাধিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আগামী ৮ মে, ২০২৬-এর মধ্যে এই বিষয়ে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে RBI।

১. ‘কিল সুইচ’: এক টিপেই বন্ধ হবে সব লেনদেন
মোবাইল অ্যাপে একটি বিশেষ ‘কিল সুইচ’ (Kill Switch) রাখার প্রস্তাব দিয়েছে RBI। যদি কোনো গ্রাহক বুঝতে পারেন যে তাঁর ফোন হ্যাক হয়েছে বা তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তবে এই বাটনে ক্লিক করামাত্রই তাঁর অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবা (যেমন- UPI, নেট ব্যাঙ্কিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। একবার এই পরিষেবা বন্ধ হলে, তা পুনরায় চালু করতে গ্রাহককে কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে অথবা সরাসরি ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।

২. ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে ‘এক ঘণ্টার বিরতি’
প্রতারণার পরিসংখ্যান বলছে, মোট আর্থিক জালিয়াতির প্রায় ৯৮.৫ শতাংশই ঘটে ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে। তাই RBI ‘ল্যাগড ক্রেডিট’ (Lagged Credit)-এর প্রস্তাব দিয়েছে।

নিয়মটি কী? যদি আপনি ১০,০০০ টাকার বেশি কাউকে পাঠান, তবে টাকাটি প্রাপকের অ্যাকাউন্টে তৎক্ষণাৎ জমা পড়বে না।

লেনদেন শুরু হওয়ার পর ১ ঘণ্টার একটি ‘হোল্ড পিরিয়ড’ বা বিরতি থাকবে।

এই সময়ের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটলেও তা প্রাপকের কাছে পৌঁছাবে না। ফলে ভুলবশত বা প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে টাকা পাঠালে, এক ঘণ্টার মধ্যে সেই লেনদেন বাতিল করার সুযোগ পাবেন গ্রাহক।

৩. প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ‘ট্রাস্টেড পার্সন’
৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুরক্ষায় ‘ট্রাস্টেড পার্সন’ (Trusted Person) বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির ধারণা নিয়ে আসছে RBI। বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে এই গ্রাহকরা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারবেন, যাঁর যাচাইকরণ বা অথেন্টিকেশন ছাড়া লেনদেন সম্পন্ন হবে না। এতে প্রবীণদের লক্ষ্য করে চলা জালিয়াতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

কেন এই কড়াকড়ি?
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ডিজিটাল জালিয়াতি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৮ লক্ষ জালিয়াতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২২,৯৩১ কোটি টাকা। এছাড়া ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ (অন্যের নামে খোলা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট) ব্যবহার করে কালো টাকা সাদা করা রুখতে অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ বা ‘ক্রেডিট লিমিট’ বেঁধে দেওয়ার কথাও ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

Previous post

ED Raid : প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জেরা, ইডির হাতে গ্রেফতার হতেই অসুস্থ বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার, ভর্তি আরজি করে

Next post

হারের হ্যাটট্রিক পন্থদের! অপ্রতিরোধ্য পঞ্জাব, প্রিয়াংশ-কুপার ঝড়ে আক্রান্ত গোয়েঙ্কার দল

Post Comment

You May Have Missed