Birthday Celebration: জীবনের ইনিংসে সেঞ্চুরি, নেতাজিকে চাক্ষুষ করেছেন বাঁকুড়ার ‘এই’ মহিলা! এখন কোন নিয়মে জীবন কাটাচ্ছেন?
Last Updated:
Birthday Celebration: স্বাধীনতার আগের ভারত থেকে বর্তমান সময়, এক শতাব্দীর সাক্ষী তিনি। ছাতনা ব্লকের বাসিন্দা বাসন্তী গুপ্ত পূর্ণ করলেন ১০০ বছর। শতবর্ষের এই বিশেষ দিনটিতে পুরো পরিবার একসঙ্গে জড়ো হয়ে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করল তাঁর জন্মদিন।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: জীবনের ইনিংসে সেঞ্চুরি! একশো বছর পূর্ণ করলেন বাঁকুড়ার ছাতনা ব্লকের বাসিন্দা বাসন্তী গুপ্ত। শতবর্ষের জন্মদিন উপলক্ষে এক ছাদের তলায় জড়ো হল গোটা পরিবার। আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে আনন্দের আবহে উদযাপিত হল তাঁর ১০০ বছরের জন্মদিন। আজকের ব্যস্ত জীবনে যেখানে একসঙ্গে পরিবারের সকল সদস্যের সময় কাটানোই কঠিন, সেখানে শতায়ু বাসন্তী দেবীকে ঘিরে এই পারিবারিক মিলন যেন এক অন্যরকম প্রাপ্তি। এক শতাব্দীর জীবনে কত পরিবর্তন, কত ওঠাপড়া, কত স্মৃতি জমা হয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সেই দীর্ঘ পথ চলার সাক্ষী হয়েই বিশেষ দিনটি উদযাপন করল পরিবার।
স্বাধীনতার আগে ও পরের ভারতকে কাছ থেকে দেখেছেন বাসন্তী গুপ্ত। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে সময়ের নানা পালাবদল। একসময় বই পড়ার প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। প্রায় ১৯-২০ বছর বয়স থেকে শুরু করেছিলেন ভগবদ্গীতা পাঠ। তাঁর মুখে গীতা পাঠ শুনতে একসময় বাড়ির উঠোনে জড়ো হতেন প্রায় কুড়িজন মহিলা। তবে বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো বই পড়তে বা গীতা পাঠ করতে পারেন না তিনি। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমেছে, কোমরেও এসেছে ক্ষয়। তবুও শতবর্ষে পৌঁছেও নিজের মতো করে জীবন কাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাসন্তী দেবী। সময়ের সঙ্গে শরীরের পরিবর্তন এলেও তাঁর দীর্ঘ জীবনের স্মৃতি আজ পরিবারের কাছে অমূল্য সম্পদ।
বাসন্তী দেবীর ছোট ছেলে গৌতম গুপ্তের বয়স এখন ৬৫ বছর। মায়ের জীবনযাপন সম্পর্কে তিনি জানান, এখনও নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম নিজেই করার চেষ্টা করেন বাসন্তী দেবী। স্নান করা, গায়ে তেল মাখা থেকে শুরু করে খাওয়াদাওয়া- সবই নিজের মতো করে করেন। খাবারের অভ্যাসেও রয়েছে নিজস্বতা। গৌতম গুপ্তের কথায়, “মায়ের জীবনযাপন একদম স্বাভাবিক। ভাত খান না, মুড়ি খান এবং কখনও একটু চপ আর চা।” তবে দীর্ঘ জীবনের পথে শুধু আনন্দ নয়, সহ্য করতে হয়েছে গভীর শোকও। নিজের সন্তানদের হারানোর বেদনাও তাঁকে বহন করতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর প্রাণোচ্ছলতা অনেকটাই কমে এসেছে।
একশো বছর, সময়ের হিসাবে একটি পূর্ণ শতাব্দী। এই সময়ের মধ্যে বদলে গিয়েছে সমাজ, জীবনযাত্রা, প্রযুক্তি এবং মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস। বাসন্তী গুপ্তের জীবনেও রয়েছে এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষ্য। একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে চাক্ষুষ দেখার অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর জীবনের পথ। ক্রিকেটের ভাষায় বলতে গেলে, জীবনের দীর্ঘ ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। আর এই বিশেষ দিনে তাঁর পাশে গোটা পরিবার। শতবর্ষের জন্মদিন তাই শুধু কেক কাটা বা আনন্দ উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, পুরনো স্মৃতি আর প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভালোবাসাকে উদযাপন করার দিন। ছাতনার বাসন্তী গুপ্তের এই শতায়ু জীবন নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা।
Post Comment