Kojagari Lakshmi Puja: অন্যের ঘরে লক্ষ্মী আনলেও নিজের সংসারে টান! উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, কম লাভে দিশেহারা শিল্পীরা
Last Updated:
Kojagari Lakshmi Puja: ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি শুরু হলেও নবদ্বীপের শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাট সংলগ্ন পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের সংসারে ফেরেনি লক্ষ্মী। উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, দক্ষ কারিগরের অভাব এবং প্রতিমার সঠিক দাম না পাওয়ায় দিনরাত খেটেও কাটছে না তাঁদের অভাব-অনটন।
নবদ্বীপ, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: অন্যের ঘরে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, অথচ সেই লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করেও নিজেদের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পারছেন না মৃৎশিল্পীরা। দুর্গাপুজো শেষ হতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। আর সেই উৎসবকে ঘিরেই এখন চরম ব্যস্ততা নবদ্বীপের মৃৎশিল্পীদের। দিনরাত এক করে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা। কিন্তু বাজারে চাহিদা থাকলেও বাড়ছে না লাভের অঙ্ক। উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দক্ষ কারিগরের অভাবে ক্রমশ বাড়ছে তাঁদের দুশ্চিন্তা।
নবদ্বীপের শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাট সংলগ্ন পালপাড়ায় এখন চোখে পড়ছে লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কোথাও চলছে মাটির কাজ, কোথাও প্রতিমায় রং করার প্রস্তুতি, আবার কোথাও শেষ হচ্ছে সাজসজ্জার কাজ। পুজোর আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্ডার অনুযায়ী প্রতিমা তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে শিল্পীদের। ফলে কাজের চাপও যথেষ্ট।
কিন্তু এই বিপুল পরিশ্রমের বিনিময়ে কতটা লাভ হচ্ছে তাঁদের? শিল্পীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছোট লক্ষ্মীপ্রতিমার পাইকারি দাম শুরু হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা থেকে। এই সামান্য দামের মধ্যেই মাটি সংগ্রহ, প্রতিমা গড়া, রং করা এবং সাজসজ্জা-সহ একাধিক ধাপের খরচ সামলাতে হয়। পাশাপাশি রয়েছে শ্রমের মূল্য। ফলে প্রতিমা বিক্রি হলেও প্রত্যাশিত আয় হাতে থাকছে না বলেই দাবি শিল্পীদের।
মৃৎশিল্পী দ্বীপ দাসের কথায়, লক্ষ্মীপ্রতিমার চাহিদা ভালো থাকলেও সেই অনুপাতে দক্ষ কারিগর পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আর এই পেশায় আসতে চাইছেন না। অন্যদিকে, রং-সহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রতিমার দাম সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই পরিশ্রম বাড়লেও উপার্জন বাড়ছে না।
দেবী লক্ষ্মীর কাছে ভক্তদের প্রার্থনা, সংসারে আসুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। কিন্তু যাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয় সেই দেবীর প্রতিমা, তাঁদের নিজেদের সংসারে কবে ফিরবে স্বচ্ছলতা? কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রাক্কালে নবদ্বীপের পালপাড়ার শিল্পীদের সামনে এখন এটাই বড় প্রশ্ন।
Post Comment