Durga Puja 2026: পুজোয় যাত্রী সংখ্যায় রেকর্ড শিয়ালদহ ডিভিশনে, ভিড়ের নিরিখে টেক্কা দিল কোন স্টেশন?
Last Updated:
একই সঙ্গে যাত্রীদের সহযোগিতা, ধৈর্য ও বোঝাপড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ডিআরএম। তাঁর বক্তব্য, এই সাফল্য রেল পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য নিরাপদ, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা নিশ্চিত করাই রেলের লক্ষ্য।
দুর্গাপুজোয় রেকর্ড যাত্রীসংখ্যা শিয়ালদহ ডিভিশনে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত শহরতলির ট্রেনে যাতায়াত করেছেন ২ কোটি ৬৩ লক্ষেরও বেশি যাত্রী। রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় শিয়ালদহ ডিভিশনে মোট যাত্রীসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৬৩,৩৯,৬৯৮। গত বছরের তুলনায় যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩৩.৪৪ শতাংশ। উৎসবের দিনগুলিতে বিপুল যাত্রীচাপ সামলে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে একাধিক বিশেষ পদক্ষেপ করেছিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে কলকাতা ও শহরতলির মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাঁদের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা লোকাল ট্রেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং যাত্রীসংখ্যার নিরিখে আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মোট ২৬৬টি বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছে। এর ফলে পুজোর ভিড় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য অতিরিক্ত পরিষেবার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।
তবে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে। ২০২৬ সালের পুজোর হিসাবের সময়সীমা গত বছরের তুলনায় এক দিন বেশি ছিল। এ বছর সপ্তমীও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে অতিরিক্ত একটি দিনের যাত্রী চলাচলও মোট সংখ্যায় প্রভাব ফেলেছে।
পুজোর দিনগুলিতে শিয়ালদহ, দমদম, বিধাননগর রোড, সোনারপুর, বালিগঞ্জ, রানাঘাট এবং কল্যাণী স্টেশনে বিশেষভাবে বেশি যাত্রীসমাগম লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নজরদারি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, কল্যাণী স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা প্রায় ১৪.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উৎসবের দিনগুলিতে বিপুল সংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করেছে। কমার্শিয়াল, অপারেটিং, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF), মেডিক্যাল-সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি একযোগে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
বিভিন্ন স্টেশনে রেলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছিল। যাত্রীদের সঠিক দিকনির্দেশ দেওয়া, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ও মেগাফোনের মাধ্যমে নিয়মিত ঘোষণা করা হয়েছে। ডিভিশনাল ওয়ার রুম থেকেও পরিস্থিতির উপর ধারাবাহিক নজরদারি চালানো হয়।
শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চলাচল সফলভাবে পরিচালনা করতে পেরেছে শিয়ালদহ ডিভিশন। বিশেষ ট্রেন চালানো থেকে শুরু করে কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রেলকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান তিনি।একই সঙ্গে যাত্রীদের সহযোগিতা, ধৈর্য ও বোঝাপড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ডিআরএম। তাঁর বক্তব্য, এই সাফল্য রেল পরিবারের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন। প্রত্যেক যাত্রীর জন্য নিরাপদ, সুবিধাজনক ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা নিশ্চিত করাই রেলের লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, পুজোর পাঁচ দিনে ২.৬৩ কোটিরও বেশি যাত্রীর যাতায়াত এবং গত বছরের তুলনায় যাত্রীসংখ্যায় ৩৩.৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি—শিয়ালদহ ডিভিশনের কাছে এ বছরের দুর্গাপুজো ছিল পরিষেবা পরিচালনার বড় পরীক্ষা। বিশেষ ট্রেন ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই বিপুল যাত্রীচাপ সামলানোই রেলের কাছে অন্যতম সাফল্য হিসেবে উঠে এসেছে।

Post Comment