Adhir Chowdhury: জল-ফ্যান দেওয়ার ‘অপরাধে’ মধ্যরাতে বাড়িতে হামলা! মুর্শিদাবাদে রক্তাক্ত পরিবার, অস্ত্র রাখার ডাক অধীরের—তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়

Adhir Chowdhury: জল-ফ্যান দেওয়ার ‘অপরাধে’ মধ্যরাতে বাড়িতে হামলা! মুর্শিদাবাদে রক্তাক্ত পরিবার, অস্ত্র রাখার ডাক অধীরের—তুঙ্গে রাজনৈতিক ঝড়

Last Updated:

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে এক কংগ্রেস সমর্থক পরিবারের বাড়িতে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে, এতে মহিলা-সহ কয়েকজন আহত হন

বহরমপুরে ঘটনাস্থলে অধীর চৌধুরী 
বহরমপুরে ঘটনাস্থলে অধীর চৌধুরী 

বহরমপুর, কৌশিক অধিকারী: বিধানসভা নির্বাচনের দিনে বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ঘটনা ঘটেছিল। আর এবার ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ মুর্শিদাবাদে। কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতে হামলার অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বাড়িতে ভাঙচুর, মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় আহত মহিলা-সহ ৩। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। শনিবার মধ্যরাতে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে। শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে অধীরে নিদান, “বাড়িতে অস্ত্র রাখুন।” তা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক।

অভিযোগ, কেবলমাত্র অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে জল ও ফ্যান দেওয়ার কারণেই তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা একটি পরিবারের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়।প্রিয়া ঘোষ জানান, ঘটনাটি শুরু হয় যখন কুঞ্জঘাটা দিক থেকে মেঘনাদ নামে এক ব্যক্তি কিছু দুষ্কৃতী নিয়ে তাদের বাড়ির দিকে আসে এবং তার বাবাকে মারতে উদ্যত হয়। সেই সময় তার স্বামী ও বোন বাঁধা দিলে বচসা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার বোনকে হুমকি দেওয়া হয়—গুলিও করে মারার ভয় দেখানো হয়।

এর কিছুক্ষণ পরেই দুষ্কৃতীরা তাদের বাড়ির গেটে জোরে লাথি মেরে ভেঙে ফেলে এবং ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাড়িতে থাকা শিশু ও পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। প্রিয়ার বোনের জামাকাপড় টেনে ছিঁড়ে দেওয়া হয় এবং জেঠুর মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয়, যার ফলে বর্তমানে তার অস্ত্রোপচার (অপারেশন) চলছে। প্রিয়া আরও জানান, ভোটের দিন অধীর রঞ্জন চৌধুরী মন্দিরে বসেছিলেন। সেখানে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে তিনি ফ্যান নিজের দিকে না ঘুরিয়ে সবাইকে সমানভাবে বাতাস দেওয়ার কথা বলেন। সেই সময় কেউ তাকে জলও দেন। অভিযোগ, এই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে পাশের কিছু ব্যক্তি কুৎসা রটাতে থাকে এবং পরবর্তীতে হামলার সূত্রপাত হয়। এছাড়া, মেঘনাদ নামে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রিয়ার বোনকে হুমকি দিয়ে বলে, “অধীর কী করবে দেখে নেব।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এই হামলায় প্রিয়ার বোন, দিদি, জেঠু ও দাদা আহত হয়েছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রিয়া বলেন, “ওদের যাবজ্জীবন সাজা হোক। আগেও এদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার একই কাজ করছে।” এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান অধীর চৌধুরী। অধীর বলেন, “ভোটের দিন আমার সঙ্গে এই পরিবার সৌজন্য বিনিময় করেছিল। আমি জানি না ওরা কোন দলের সমর্থক। কিন্তু আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাতেই তাঁদের উপর আক্রমণ হয়েছে।” এরপরই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পাড়ার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নিদান দিয়ে বাড়িতে অস্ত্র রাখার নিদান দেন অধীর। ঘটনায় বহরমপুর শহর যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষের নামে অভিযোগ জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed