তৃণমূলের নব নির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মমতা, কে হচ্ছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ?
আশাবুল হোসেন, কলকাতা : তৃণমূলের নব নির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলনেত্রীর বাড়িতে আজ বিকালেই রয়েছে এই বৈঠক। বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দলের বেশ কিছু সাংসদ এবং শীর্ষ নেতৃত্বও থাকবেন। আজকের বৈঠক থেকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন সেটা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় তাঁদের পাশে থাকার বার্তা বিধায়কদের দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও আজকের বৈঠকে তৈরি করা হতে পারে। ১০ জনের সেই কমিটি তৈরি করার কথা রয়েছে।
“আমরা তো হারিনি। হারলে পদত্যাগ করতাম।” রাজ্যে তৃণমূল ধরাশায়ী হওয়ার পরও, এমন আজব দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। লজ্জাজনক হারের পরেও কেন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী ? উঠছে প্রশ্ন।
খাঁ খাঁ করছে মমতার বাড়ির সামনের রাস্তা, সাতসকালে চলে গেলেন পুলিশকর্মীরাও; মাত্র কয়েকজন গলিতে
এ যেন ভোট সুনামি। এ যেন হড়পা বান। বিজেপির পক্ষে পশ্চিমবঙ্গবাসীর বিপুল জনমত। ইস বার দোশো পার। বিজেপির জয়ে চাপা পড়ে গেছে তৃণমূল। ওঠার ক্ষমতাটুকু নেই। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর নিজের বিধানসভার গণনাকেন্দ্রে গিয়ে স্লোগান শুনতে হয়েছে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। ২০১১ সালে এভাবেই মানুষের উচ্ছ্বাস-আবেগে ভেসে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আর ২০২৬ সালে এভাবে চলে যেতে হল সেই তাঁকে। আর মঙ্গলবার আজব দাবি করেন তিনি। নিজের হার….দলের লজ্জাজনক হারের পরও কেন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ? যা সম্ভব নয়, তা জেনেও কেন পদত্য়াগ করতে চাইছেন না তিনি ? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কি কোনও বিশ্বাস নেই মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ? তাঁর বিতর্কিত-চাঞ্চল্য়কর মন্তব্য়ের জেরে উঠেছে প্রশ্ন।
২০১১ সালে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দলের কাছে যখন সিপিএম পরাজিত হয়েছিল, তখন রেজাল্ট বার হতে না হতেই, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজ্য়পালের কাছে গিয়ে ইস্তফা দিয়েছিলেন ! এটাই পদ্ধতি । তাহলে কার্যত গো হারা হারার পরও, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কেন ইস্তফা দিতে রাজি হচ্ছেন না ? পরাজয়ের ফলে তিনি কি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ? ভোটে জয়-পরাজয় থাকবে । তাহলে সত্য়িকে সত্য়ি বলে স্বীকার করে নিতে অসুবিধা কোথায় ?
৭ মে, বৃহস্পতিবার শেষ হবে চলতি রাজ্য সরকারের মেয়াদ। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করবেন ? ভোটের ফলাফল বেরনোর পরও তাঁর মন্তব্য়ে বিতর্ক থামছে না।



Post Comment