হরমুজে ২টি ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ইরানের, জবাবে যা করল ভারত…
নয়াদিল্লি : দু’টি ভারতীয় জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড। হরমুজে ভারতীয় জাহাজে গুলির পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। ভারতে ইরানের দূত মহম্মদ ফতহালিকে কেন্দ্রীয় বিদেশ-মন্ত্রকে ডেকে পাঠিয়ে এনিয়ে প্রতিবাদ জানাল ভারত।
জাগ অর্ণব ও সনমার হেরাল্ড নাম দুটি জাহাজের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালানো হয়। যার জেরে সংশ্লিষ্ট জলপথে নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। খবর আসার পরই এনিয়ে প্রতিবাদ জানায় ভারতের বিদেশ-মন্ত্রক। এনিয়ে ইরানের দূতকে ডেকেও পাঠানো হয়। এদিকে যেহেতু হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নৌবাহিনীর কোনও জাহাজ নেই, তাই এই ঘটনার পুঙ্খনাপুঙ্খ খবর জানার চেষ্টা করছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ওমানে ভারতের ২টি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট ও একটি ট্যাঙ্কার আছে।
আধিকারিকরা বলেছেন, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডের তরফে এই গুলি চালানোকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছে ভারত এবং ভারত হরমুজ প্রণালীতে উন্মুক্ত ও অবাধ জাহাজ চলাচলের পক্ষে। তাঁরা বলেন যে, যেটিতে আগুন লেগেছিল তার পাশেই আরেকটি ভারতীয় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছিল, কিন্তু সেটি এই ঘটনার অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইরান ও ওমানের মাঝে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন করিডর। যে পথ দিয়ে বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের ২০ শতাংশ পারাপার করে। এই প্রণালীটি সর্বাধিক সংখ্যক যে সব দেশের জাহাজ যাতায়াত করে তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম, যা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর এর নির্ভরতাকে প্রতিফলিত করে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফের অবস্থান বদল করেছে ইরান। হরমুজে ফের বিধিনিষেধ জারি করেছে তারা। তাদের দাবি, আমেরিকা শর্ত ভেঙেছে। এখনও অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। বাধা দেওয়া হচ্ছে বন্দরে জাহাজ ঢোকা এবং বেরনোয়। তাই পুনরায় হরমুজে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমেরিকা জানিয়েছে, এখনই ইরানের জাহাজ আটকানো থেকে বিরত হবে না তারা। আর তাতেই, শনিবার নতুন করে হরমুজে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। তাদের জয়েন্ট মিলিটারি কম্যান্ডের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল…সশস্ত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে সেখানে’।
আমেরিকা অবরোধ তা তোলা পর্যন্ত, তারাও হরমুজকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করবে না বলে জানিয়েছে ইরান। Strait of Hormuz
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগও তুলেছে ইরান। US-Iran Conflict News



Post Comment