পশ্চিমবঙ্গের নাম কি ‘বাংলা’ হওয়া উচিত, কী বলছেন জহর সরকার, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি?

পশ্চিমবঙ্গের নাম কি ‘বাংলা’ হওয়া উচিত, কী বলছেন জহর সরকার, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ি?

কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ডিভিডেন্ড তুলতে মরিয়া সব পক্ষই। তাই কি কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করায় সায় দিল কেন্দ্র, গতকাল থেকেই এই প্রশ্ন উঠছে। কেরলের নাম পরিবর্তনে সায় দিলেও, বহু বছর ধরে পড়ে থাকা পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের আবেদনে কেন সাড়া দিচ্ছে না নরেন্দ্র মোদি সরকার, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিদ্বজনেরা কী বলছেন। পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের পক্ষে তাঁরা, না বিপক্ষে? এবিপি আনন্দে মুখ খুললেন একদা আমলা তথা প্রাক্তন সাংসদ জহর সরকার, শিক্ষাবিদ নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়িরা। (West Bengal Name Change Row)

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে রাজ্যের নাম পাল্টে ‘বাংলা’ করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তা নিয়ে তৃণমূলের পদত্যাগী সাংসদ জহর বলেন, “বাংলার নাম ‘ব’ দিয়ে শুরু হোক। কী নাম হবে, তা জেনে কাজ নেই আমার। কিন্তু ‘ব’ দিয়ে শুরু হোক। কারণটা বলছি, একজীবন, প্রায় ৪১ বছর বিভিন্নমঞ্চে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছি। কী নাম না, W, West Bengal. কোথাও আলোচনা করতে গেলে অসম, অরুণাচলপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ— অর্থাৎ A দিয়ে শুরু হয়। J পর্যন্ত গিয়ে দম ফুরিয়ে যায়। বছরের পর বছর, মাসের পর মাস আমরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সেমিনার, ওয়র্কশপ করেছি। দেখেছি, A থেকে শুরু করে J-K পর্যন্ত গিয়ে, কর্নাটক পর্যন্ত গিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘হয়ে গিয়েছে, হয়ে গিয়েছে, আমরা বুঝে নিয়েছি’। মানে যত নীচের দিকে নাম, তাদের কাছে সারাজীবন সুযোগই পেলাম না কোনও ব্যাপারে উঠতে।” (Kerala Name Change)

কেরল এবং বাংলার মধ্যে যে তুলনা উঠছে, তা নিয়ে নৃসিংপ্রসাদ বলেন, “ওরা তো এই শব্দ বলেই। আমাদের সংস্কৃত শব্দ রয়েছে যে সব, আমি যদি অন্ন বলি, ওরা বলে অন্নম, রসম। ফলে সেটা তামিলদের স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতকরণ বলা উচিত নয়, দ্রাবিড় বলা উচিত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, আমাদের দেশেও যে সমস্ত বহু রকমের নাম ছিল, বঙ্গ, বেঙ্গালা, বঙ্গাল…এই যে তাম্রলিপ্ত, মেদিনীপুর। এই জায়গাটা তো আলাদা ছিল! বঙ্গের মধ্যে ছিল না। ফলে সম্পূর্ণ জায়গাটা ধরে, যে নাম রবীন্দ্রনাথের আমল থেকে প্রচলিত, ‘বাংলার বায়ু, বাংলার জল’ ইত্যাদি…সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে।”

নির্বাচনের মুখে যেভাবে কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করায় সায় দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, অথচ পশ্চিমবঙ্গের আবেদনে আজও সাড়া মেলেনি, সেই নিয়ে গতকালই আক্রমণ শানান মমতা। তিনি জানান, নামের দরুণ পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়া থেকে চাকরিপ্রার্থী এমনকি সরকারকেও পিছনের সারিতে থাকতে হয়। সবার শেষে সুযোগ মেলে। বার বার করে তাই নাম পাল্টানোর আবেদন জানানো হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বরাবরই কেন্দ্রের আচরণ বঞ্চনাপূর্ণ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী বলেও অভিযোগ করেন মমতা। যদিও বিজেপি-র দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টালে বঙ্গভঙ্গের ইতিহাস মুছে যাবে। কেন পূর্ববঙ্গ আলাদা হয়েছিল, তা ভুলিয়ে দিতেই নামবদল করতে চাইছেন মমতা।

পিনারাই বিজয়নের সরকার কেরল-এর নাম বদলের প্রস্তাব সামনে আনার অনেক বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলের প্রস্তাব আনে মমতা সরকার। কেরলের তরফে যেমন প্রস্তাব সংশোধন করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবও সংশোধন করা হয়। কিন্তু তাসত্ত্বেও কেরলের নাম পরিবর্তনের আর্জিতে সায় মিলল, অথচ পশ্চিমবঙ্গের আর্জি মানা হল না কেন, প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এতদিন আটকে রেখেছিল দিল্লি। ভোটের আগে বোধহয় বলেছে কেউ যে, এবার মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। এবার ছেড়ে দিন। কেরলের মানুষের সার্বিক অনুভূতি এটা। তবে বাংলার সঙ্গে এর তুলনা হয় না।”

Previous post

East Medinipur News: হাতে স্টিয়ারিং, অ্যাম্বুলেন্স চালাতে চালাতেই রোগীকে গান শোনান পটাশপুরের রবীন্দ্রনাথ 

Next post

বিধাননগর স্টেশনে লোকাল ট্রেনে আগুন, আতঙ্কিত যাত্রীরা, ভয়ঙ্কর দৃশ্য ধরা পড়ল ক্যামেরায়

Post Comment

You May Have Missed