সিংহ স্থির বলে কেউ লাথি মারবে ভাবলে ভুল করছে, আমরাও তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি: শমীক
কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে গুলি করে নৃশংস ভাবে খুন। ঘটনায় কেঁপে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। ৭ মে সকালে বারাসত হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: ‘অভিষেক নয়, অভিশাপ; MP, MLA-দের চাকর মনে করত’, ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক!
শমীক ভট্টাচার্য বললেন, “পুলিশ তদন্ত করছে। পরবর্তীতে তারা জানাবে। গতকালের ঘটনা প্রমাণ করে দিল পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলা এই মুহূর্তে কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত প্রশাসনকে ধ্বংস করেছে। পুলিশের রাজনীতিকরণ সম্পূর্ণ করেছে। সমস্ত অপরাধীদের ভয় মুক্ত করেছে। অপরাধীরা মনে করছে এটা স্বর্গ রাজ্য। বারাসত ও মধ্যমগ্রাম সীমান্ত থেকে খুব দূরে নয়। বহু ধরনের সমাজ বিরোধী কার্যকলাপ এখানে দিনের পর দিন হয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্য এই অঞ্চলকে ভুয়ো পরিচয় পত্র তৈরির প্রধান কেন্দ্র বলেও দাগিয়ে দেন তিনি, “জাল আধার কার্ড তৈরি, জল রেশন কার্ড তৈরি, জাল এপিক তৈরির কাজ এই বারাসত ও মধ্যমগ্রাম থেকে চলছে। ভারতের যে প্রান্তেই যে অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে, তাদের জেরা করে জানা গিয়েছে, তারা কার্ড সংগ্রহ করত এখান থেকে। সেই কারণেই এটা স্পর্শকাতর অঞ্চল।”
শমীক প্রশ্নও তুললেন যে এই হত্যাকাণ্ড কি কাউকে বার্তা দেওয়ার জন্য? তিনি বললেন, “এখানে যেভাবে এই হত্যাকাণ্ড হল, কার্যত সেটা একটাই বার্তা দেওয়ার জন্য হল? মানে এটা প্রধানমন্ত্রী ২ দিন পর আসছেন, তাঁকে বার্তা দেওয়ার জন্য? এই ধরনের উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা চলছে এটা আমি অস্বীকার করছি না। আমি আমার দলের কর্মীদের ও প্রশাসনকে বার্তা দিয়েছি, কেউ যদি কোনও জায়গায় কোনও অশান্তি তৈরি করে, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নিতে। কিন্তু এটা কী হল?”
এর পর শমীকের মুখে শোনা গেল তৃণমূলের ভাষার কথাও, “আমরা জিতলাম। আর আমাদের ৩ জন কর্মী মারা গেলেন? আমাদের কি ক্ষমতা নেই? সিংহ স্থবির বলে কেউ যদি মনে করে পদাঘাত করবে, ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি, কথা বলতে পারি। তাও বলছি না, বলবে না। এটাই হচ্ছে আমাদের স্ট্যান্ড। কিন্তু এই যে ঘটনা ঘটল যার সঙ্গে রাজনীতির দূর দূর পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই, তিনি একজনের আপ্ত সহায়ক। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। প্রাক্তন একজন সেনা কর্মী। আজ তাঁকে এই ভাবে মারার উদ্দেশ্য কী? এটা সম্পূর্ণভাবেই একটা পরিকল্পিত, প্রতিহিংসা জনিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।”



Post Comment