মাসে মাত্র ১০ হাজারের বিনিয়োগ, এই পদ্ধতি মানলে হাতে আসবে প্রায় ৮ কোটি টাকা!

মাসে মাত্র ১০ হাজারের বিনিয়োগ, এই পদ্ধতি মানলে হাতে আসবে প্রায় ৮ কোটি টাকা!

কলকাতা: মূল্যবৃদ্ধি এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের একটা বাস্তব সমস্যা। মূল্যবৃদ্ধি এমনই এক সমস্যা, যা না থাকলে থমকে যাবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি। আর একই সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে বেড়েছে মানুষের আয়ু। ফলে, বর্তমানে বলা যায় পার্সোনাল ফাইন্যান্সের কেন্দ্রে বসে রয়েছে যে কোনও মানুষের অবসর পরিকল্পনা। আর এই নিয়ে কথা বলতে গেলেই, বিশেষজ্ঞরা হিসাব করে দেখিয়ে দেন, কীভাবে মাত্র ১০ হাজার টাকার মাসিক বিনিয়োগে ৮ কোটি টাকার একটা বিরাট তহবিল তৈরি করে ফেলা যায়। আর এমন হলে নিশ্চিন্ত হবে যে কোনও মানুষের ভবিষ্যত।

হিসাব বলছে কেউ যদি মাসিক ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে। আর সেই বিনিয়োগে বছরে অন্তত ১২ শতাংশ রিটার্ন আসে, তাহলে ৩০ বছরের বিনিয়োগে মোট রিটার্ন আসতে পারে ৩ কোটি টাকার মতো। আর যদি স্টেপ আপ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

অবসর পরিকল্পনাকে ‘পরে করব’ মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ফলে, এটিকে ফেলে রাখা একেবারেই উচিত নয়। টাকার অঙ্ক কম হলেও শুরু করে দেওয়া জরুরি। কারণ, কম্পাউন্ডিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ হওয়া অর্থের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও বিশেষজ্ঞরা সব সময় মূল্যবৃদ্ধির কোথাও মাথায় রাখতে বলেন। কারণ, আজকের দিনে কোনও পরিবারের যদি সব মিলিয়ে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেই একই হিসাব করে চলতে ওই পরিবারের ১০ বছর পর খরচ হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। কারণ, এই ক্ষেত্রে প্রতি বছর গড়ে ৬ শতাংশ হারে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে, ৩০ বছর পর কত হবে, সেই হিসাব আজকে দাঁড়িয়ে যদি কেউ না করেন, তাহলে আগামীতে তাঁকে পড়তে হতে পারে আর্থিক ঘাটতিতে।

ধরা যাক, কেউ যদি মাসিক ১০ হাজার টাকার SIP করলেন। বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে সেই অর্থে স্টেপ-আপও করতে থাকলেন। এবার যে কোনও বেঞ্চমার্ক সূচকের গড় রিটার্ন বছরে ১২ শতাংশ। সেই হিসাব ধরলে ওই ব্যক্তি ৩০ বছর পর প্রায় ৮ কোটি টাকা রিটার্ন পাবেন। এই সময় গড় মূল্যবৃদ্ধি যদি ৬ শতাংশ ধরা হয় তাহলে ওই টাকা অবশ্য আজকের দিনের প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার সমান হবে।

তবে, বিশেষজ্ঞরা এটাও বলেন, কোনও এক জায়গায় নিজের সব বিনিয়োগ একত্রীত না করে রাখতে। তাঁরা পোর্টফোলিও ডাইভার্সিফাই করতে বলেন। ফলে, কোনও ব্যক্তির পোর্টফোলিওতে ইক্যুইটি, ডেট ও গোল্ডে বিন্যইয়োগ থাক উচিত। আর অবসর যত এগিয়ে আসে, ততই ইক্যুইটি থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে ডেটে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যাতে বাজার অস্থির হলেও নিজের সঞ্চয় সুরক্ষিত থাকে।

(মনে রাখবেন : এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বাজারে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগকারী হিসাবে অর্থ বিনিয়োগ করার আগে সর্বদা একজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করুন। ABPLive.com কখনও কাউকে এখানে অর্থ বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয় না। এখানে কেবল শিক্ষার উদ্দেশ্যে এই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কিত খবর দেওয়া হয়। কোনও শেয়ার সম্পর্কে আমরা কল বা টিপ দিই না।)

Post Comment

You May Have Missed