প্রথম দফায় ভোট দেবেন কারা? ট্রাইবুনালের চূড়ান্ত তালিকা বুধেই প্রকাশ! ১৬ জেলায় শুরু সায়লেন্স পিরিয়ড
সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটের আগে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত যাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হবে, তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগারওয়াল জানান, ট্রাইবুনাল যাঁদের অনুমোদন দেবে, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে। ফলে প্রথম দফায় কারা ভোট দিতে পারবেন, তা মঙ্গলবার রাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
প্রথম দফার জন্য নির্ধারিত আসনগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৮০১। বিবেচনাধীন ছিল ৩৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫১৭ জন। নিষ্পত্তির পর সংশোধিত তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১। যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। সেই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই হবে। অনুমোদন পাওয়া ভোটারদের নামও তালিকায় যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ১৬টি জেলায় বন্ধ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। জন প্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ১২৬ ধারায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এই সময়ে কোনও ধরনের প্রচার বা রাজনৈতিক কার্যকলাপ করা যাবে না। সিইও দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের ৪৮ ঘণ্টা আগে এলাকা ছাড়তে হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এই নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস ও ধর্মশালায় তল্লাশি চালিয়ে বহিরাগতদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে, প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই দফায় উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে ভোট হবে। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং বীরভূম, মুর্শিদাবাদেও এই দফায় নির্বাচন রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানেও একই দিনে ভোটগ্রহণ হবে।
সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়—মোট ৩১৬ কোম্পানি। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২৪০ এবং জঙ্গিপুরে ৭৬ কোম্পানি থাকবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ২৭৩, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭১, বাঁকুড়ায় ১৯৩, বীরভূমে ১৭৬, মালদহে ১৭২, পুরুলিয়ায় ১৫১, কোচবিহারে ১৪৬, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩, ঝাড়গ্রামে ৭৪, দার্জিলিংয়ে ৬১, কালিম্পংয়ে ২১, জলপাইগুড়িতে ৯২ এবং আলিপুরদুয়ারে ৭৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
উত্তর দিনাজপুরকে ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ—দুটি পুলিশ জেলায় ভাগ করা হয়েছে। সেখানে যথাক্রমে ৬১ ও ৭১ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। শিলিগুড়ি কমিশনারেটে ৪৪ এবং আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোচবিহার দক্ষিণ ও ইটাহারে সর্বাধিক ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী সংখ্যা ১৪। মোট ১,৫২৫টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ১,৪৭৮টি বৈধ হয়েছে। করণদিঘিতে সর্বাধিক ১৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। অন্যদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৬টি মনোনয়ন জমা পড়েছে।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষককে বদল করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। নতুন পর্যবেক্ষক হিসেবে অখিলেশ সিংহকে নিয়োগ করা হয়েছে। আগে এই পদে ছিলেন হিতেশ চৌধরি। বদলের কারণ স্পষ্ট না হলেও, কমিশন জানিয়েছে অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে।



Post Comment