ভারত-চিন-সহ অন্য দেশের উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রস্তাব ফেরাল বিধ্বস্ত নেপাল, নেপথ্যে কী ?

কাঠমাণ্ডু : চারিদিক বিধ্বস্ত। ছন্নছাড়া ছবি। তারইমধ্যে চলছে উদ্ধারকাজ। হড়পা বানের পর নেপালে জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।  আর তাদের একাজে সাহায্য করতে চেয়ে এগিয়ে আসতে চেয়েছিল একাধিক দেশ। ভারত, চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু, তাদের সাহায্য প্রত্যাখ্যান করেছে নেপাল।

চিনের সীমান্ত এলাকায় নেপালের বিধ্বস্ত গ্রামে এখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালেরই বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সি এবং একাজে সক্ষম আরও অন্যান্য সংস্থা। নেপালের ব্যালেন শা-নেতৃত্বাধীন সরকার এমনই জানিয়েছে শুক্রবার। এদিকে হড়পা বানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪৭২। প্রতি মুহূর্তে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বুধবার থেকে নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ। কাদা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। 

দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্টের খবর অনুযায়ী, “বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর অনুমতি চেয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে নেপালের বিদেশ মন্ত্রক সরকারি ও বেসরকারি অনুরোধ পেয়েছিল। তবে আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, কাঠমান্ডু নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সংস্থার ওপরই নির্ভর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্টকে বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা একইরকম অনুরোধ চিন এবং অন্যান্য দেশের কাছ থেকে পেয়েছি, কিন্তু আমাদের সেইসব অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে হয়েছে।” সংবাদ সংস্থাকে মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, অন্য দেশের কাছ থেকে উদ্ধারকাজে সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

নেপাল কেন বিদেশের উদ্ধারকারী দলের সাহায্যের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে ?

আধিকারিকরা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের পিছনে আংশিক ভূমিকা রেখেছে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় নেপালের হওয়া অভিজ্ঞতা। সে সময় বিপুল সংখ্যক বিদেশি উদ্ধারকারী দল আসার ফলে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার কাজে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। এর পরিবর্তে সরকার সহায়তা দিতে আগ্রহী দেশ ও সংস্থাগুলির কাছে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।

পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন পর্যায়ে আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নেপাল মানবিক ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫,০০,০০০ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পাঠিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলিতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানের জন্য নেপাল পুলিশ ৪,৩৪৮ জন সদস্য মোতায়েন করেছে। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলির তল্লাশি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং থেকে শত শত মানুষকে উদ্ধার করেছে।

 

Post Comment

You May Have Missed