বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে নিরাপত্তার সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর, পুলিশ শুধু ভোটারদের লাইন দেখবে

বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে নিরাপত্তার সব দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর, পুলিশ শুধু ভোটারদের লাইন দেখবে

কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) আরও কঠোরভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) ব্যবহার করতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সূত্রের খবর, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশের ভূমিকা থাকবে শুধুমাত্র ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করার কাজে। এবার নজিরবিহীনভাবে ভোটের দিন ঘোষণারও আগে রাজ্যে চলে এসেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতা ও জেলায় নিয়মিত টহল দিতে দেখা যাচ্ছে তাঁদের। তারপর কাশ্মীর থেকে আনা হয়েছে বুলেটপ্রুফ সাঁজোয়া গাড়ি, যা দেখে অনেকে বলছেন, বার্তাটা পরিষ্কার। পশ্চিমবঙ্গে হিংসা-মুক্ত ভোট করাতে নির্বাচন কমিশন এবার মরিয়া। 

আর সেই বার্তাই কার্যত আরও স্পষ্ট হল, কলকাতায় সমস্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রধানদের বৈঠকে। সুরক্ষা-পর্যালোচনায় জওয়ানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন BSF, CRPF, CISF, ITBP ও অন্যান্য বাহিনীর DG-রা, যেখানে সব বাহিনীকে একত্রিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিক করে দেওয়া হয়েছে SOP. নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে মোতায়েন থাকবে, ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

দ্বিতীয় দফার ভোটেও থাকবে একই ধরনের সুরক্ষার আয়োজন। শুধু কলকাতাতেই থাকবে প্রায় ২৫০ কোম্পানি। এক সেকশনে থাকেন ৮ জন জওয়ান। সূত্রের খবর, এবছর ভোটকেন্দ্র পিছু থাকবে অন্তত হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ চারজন জওয়ান। আর ভোটকেন্দ্রে বেশি বুথ থাকলে, সেখানে ২ সেকশন পর্যন্ত বাহিনী থাকবেন। অর্থাৎ ১৬ জন। ১০ থেকে ১২টি ভোটকেন্দ্র পিছু থাকবে একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর QRT. থানা পিছু RT মোবাইল এবং HRFS ভ্যান। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এবার আর পুলিশের উপর পুরোপুরি ভরসা করা হবে না। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে বুথের ১০০ মিটারে লক্ষ্মণরেখা কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সূত্রের খবর, সেই ১০০ মিটারের মধ্যে সমস্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশের ভূমিকা থাকবে শুধুমাত্র ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করার কাজে। নিজের মতো কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ শুধুমাত্র গাইড করবে। এমনকী কোথাও গন্ডগোলের খবর পেলে, জওয়ানরা যাতে অলি-গলিতে পৌঁছে যেতে পারেন, তার জন্য তাঁদেরকে মোটরবাইক দেওয়া হবে। পুরো পরিস্থিতিতে নজর রাখবেন কেন্দ্রীয় পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। 

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বার্তা দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবারের ভোট যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হয়, তা নিশ্চিত করতে সবরকম চেষ্টা করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন হবে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, প্রলোভনমুক্ত, ছাপ্পামুক্ত, বুথ দখলমুক্ত। তিনি আরও বলেছেন, রাজ্য সরকার, স্থানীয় সংস্থা বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনও কর্মী যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটার যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। 

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল বার্তা দিয়েছেন, যে পোলিং বুথ আছে, তার ১০০ মিটারের মধ্যে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। ১০০ মিটারের ভিতরে কেউ ঢুকতে পারবে না, ১০০ মিটারের ভিতর একটা লাইন থাকবে, যেটা চক দিয়ে কাটা হবে, কোনও লোক ভিতরে ঢুকতে পারবে না CAPF-এর অনুমতি ছাড়া। 

Previous post

West Bengal Election 2026 News : “মোদির গ্যারান্টি জিরো ওয়ারেন্টি”! বলরামপুর সভা থেকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের!

Next post

পেনশন খাতেও এবার ১০০ শতাংশ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ! সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই আসতে পারে বিল ?

Post Comment

You May Have Missed