গ্রেফতার হতেই অসুস্থ ! হাসপাতালে ভর্তি হয়েও মিলল না জামিন, ইডি হেফাজতেই বেহালার ব্যবসায়ী
কলকাতা : বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের জামিনের আর্জি খারিজ হয়েছে আদালতে। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ED হেফাজতেই থাকতে হবে সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারকে। ইডি সূত্রে খবর, বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বাড়ি থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল। তাঁর অফিস থেকে আরও ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। হাওয়ালায় বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে বেহালার এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গে কোর্টে সওয়ালও করেছেন ED-র আইনজীবী। এর পাশাপাশি ইডি- র তরফে জানা গিয়েছে, একাধিক উচ্চ পদস্থ অফিসারদের সঙ্গে জয় এস কামদারের চ্যাটের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ব্যবসায়ীর ফোন থেকে পাওয়া চ্যাটের সূত্র ধরে আদালতে এই দাবি করেছে ED. অন্যদিকে, ইডি এও জানিয়েছে যে সোনা পাপ্পুর অ্যাকাউন্ট থেকে জয় এস কামদারকে দেড় কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছিল। হাওয়ালার জন্য ব্যবহৃত হওয়া ১৫০টি অ্যাকাউন্টেরও হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছে ED.
রবিবার গ্রেফতারির পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় জয় এস কামদারকে আদালতে পেশ করা যায়নি। তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিচারক বলেন, সোমবারের মধ্যে হয় আদালতে উপস্থিত করাতে হবে নয় তো মেডিক্যাল রিপোর্ট দিতে হবে। সোমবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছোন ED অফিসাররা। সেখান থেকে জয় এস কামদারকে নিয়ে যাওয়া হয় স্পেশাল কোর্টে। ২৮ শে এপ্রিল পর্যন্ত জয় কামদারকে ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ভোটের মুখে বেআইনি লেনদেনের শিকড়-সন্ধানে তৎপর হয়েছে ED. কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে রবিবারই তারা গ্রেফতার করেছে সান এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয় এস কামদারকে। পয়লা এপ্রিল একইসঙ্গে বালিগঞ্জে ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বা়ড়ি, বালিগঞ্জে সান এন্টারপ্রাইজের অফিস এবং বেহালায় এই সংস্থার MD জয় এস কামদারের বাড়ি-সহ ১০ জায়গায় তল্লাশি চালায় ED. আর রবিবার গ্রেফতার করা হয় জয় এস কামদারকে। সোমবার তাঁকে আদালতে তুলে চাঞ্চল্যকর দাবি করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ED-র আইনজীবী দাবি করেন, জয় কামদারের অফিস থেকে ৫০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। সেই ফোনে সন্দেহজনক চ্যাট পাওয়া গেছে। চ্যাটে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
ব্যবসায়ী জয় কামদারের হাওয়ালা যোগ নিয়ে ইডির আইনজীবী আরও বলেন, ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া, দুবাই হাওয়ালার যোগ পাওয়া গেছে। ফোনে কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে কিন্তু কারণ ব্যাখা করতে পারেননি। ২ বার নোটিস দেওয়া হলেও তিনি হাজিরা দেননি। ED-র আরও দাবি, সোনা পাপ্পু এবং জয় কামদারের অ্যাকাউন্টে মোটা টাকার লেনদেন হয়েছিল। সোমবার ED-র আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, সোনা পাপ্পুর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল ব্যবসায়ী জয় কামদারের অ্যাকাউন্টে। যদিও, তিনি দাবি করেছেন, ১৫ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল। ডিজিটাল তথ্য সামনে রেখে জেরা করা প্রয়োজন। চ্য়াটে বিভিন্ন কারেন্সির উল্লেখ মিলেছে। বিদেশি কারেন্সির ছবিও পাওয়া গেছে। এর থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অভিযুক্ত ক্রস বর্ডার হাওযালার সঙ্গে যুক্ত।
পয়লা এপ্রিল সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিল ইডি। সেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে তারা দাবি করেছে, আগ্নেয়াস্ত্রটি কেনা হয়েছে জে টি ক্যালকাটা আর্মস নামে বিপণি থেকে, যার অন্যতম মালিকানা রয়েছে জয় কামদারের নামে।



Post Comment