‘পরিবর্তন’ ও ‘সংকল্প’- এর পর এবার রাজ্যপালের মুখে ‘সিন্ডিকেট’, ‘বাহুবলী’… ফের শুরু বিতর্ক

‘পরিবর্তন’ ও ‘সংকল্প’- এর পর এবার রাজ্যপালের মুখে ‘সিন্ডিকেট’, ‘বাহুবলী’… ফের শুরু বিতর্ক

কলকাতা : ‘সিন্ডিকেট’, ‘বাহুবলী’, ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’, ‘বিকশিত ভারত’, আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এমনই একাধিক প্রসঙ্গ শোনা গেল পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির মুখে। দেশের আর্থিক উন্নতি প্রসঙ্গেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করলেন তিনি। 

কী বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল আর এন রবি 

উপলক্ষ বি আর আম্বেদকর-এর ১৩৬-তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য শোনা গেল রাজ্যপালের গলায়। দেশের আর্থিক উন্নতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গত ১০ বছরের উল্লেখ করলেন তিনি। তার মানে কি ঘুরিয়ে মোদি সরকারেরই ভূয়সী প্রশাংসা করলেন রাজ্যপাল? উঠছে প্রশ্ন, কারণ এই ১০ বছরে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদিরই সরকার রয়েছে। 

রাজ্যপাল আর এন রবি বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজে, আমাদের দেশে যে পরিবর্তন হচ্ছে, ১০ বছর আগে কোথায় ছিল? দারিদ্র ছিল।বিশ্বে ১১ নম্বরে ছিল। স্বাধীনতার সময় আমরা ষষ্ঠ ছিলাম। ২০১৪-এ আমরা ১১-এ চলে আসি। গরিব থেকে আরও গরিব হই। আজ আমরা চতুর্থ স্থানে এসেছি। আমাদের আর্থিক বিকাশ বিশ্বে দ্রুত হারে বাড়ছে। সরকার বাতাবরণ তৈরি করছে। মানুষ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি, আজও তফশিলি সম্প্রদায়ের ভাইরা সিন্ডিকেটের শিকার। বাহুবলীরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করে। ভারত সংকল্প নিয়েছে ২০৪৭-এ বিকশিত ভারত তৈরি হবে। ভোটব্য়াঙ্কের রাজনীতির মধ্য়ে পড়ে গেছে পিছিয়ে পড়া সমাজ।’ 

রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যে থাকেন। রিপোর্ট করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। বিরোধী রাজ্যগুলিতে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। সাম্প্রতিক অতীতে এ রাজ্যেও জগদীপ ধনকড় থেকে সি ভি আনন্দ বোসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। এই আবহে সদ্য পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আর এন রবি। এবার তাঁর মন্তব্য নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রাক্তন IAS অফিসার সি ভি আনন্দ বোসকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে প্রাক্তন IPS অফিসার রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে। 

কয়েকদিন আগে রাজ্যের নতুন রাজ্যপালের মুখে শোনা গিয়েছিল ‘পরিবর্তন’ ও ‘সংকল্প’ এই দুটি শব্দ 

রাজ্যপাল আর এন রবি বলেন, ‘স্কুল এবং কলেজের ক্ষেত্রেও জাতীয় গড়ের থেকে আমরা অনেক নীচে। আমরা শুধুই নেগেটিভ নেগেটিভ নেগেটিভ বলছি এবং ভাবছি। এর ফলে আমাদের শিল্প সরে যাচ্ছে। আমি বিশেষ করে বাংলার যুবদের আর্জি জানাব ইতিবাচক হওয়ার সংকল্প করুন। পরিবর্তনের অংশ হওয়ার সংকল্প করুন।’ এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারও নাম না করে তিনি বলেন, ‘লাটসাহেব বাংলার, সবচেয়ে বড় বাড়িতে যিনি থাকেন। আমি নাম নিতে চাই না। আজ স্টেটমেন্ট দিয়েছে। এখন আপনাদের আন্ডারে আসার পর, আপনারা প্রতিদিন হিংসা ঘটাচ্ছেন। এটা নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকেদের বিরুদ্ধে যাবে। আমাদের নয়। আমাদের হাতে এখন আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশনের কাছে আছে। আর ভারত সরকারের কাছে আছে।  সবাইকে ভয় দেখাচ্ছে। বলছে বার্নল দিয়ে দেব। বোরোলিন দিয়ে দেব। আগে নিজেদের সামলাও।’ 

Post Comment

You May Have Missed