কোন ছকে বাংলা ও বাঙালির মন জয় বিজেপির, কীভাবে উঠল গেরুয়া ঝড়?

কোন ছকে বাংলা ও বাঙালির মন জয় বিজেপির, কীভাবে উঠল গেরুয়া ঝড়?

কলকাতা: নিখুঁত পরিকল্পনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একেবারে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। সবকিছুর মিশেলেই এবার বাংলায় বিপুল জয় পেল বিজেপি। ১৯টি জনসভা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। ২৯ জনসভা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফলও হাতে নাতে এল। লড়াইটা সহজ ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন ছকে বাংলা ও বাঙালির মন জিতল বিজেপি?

বিজেপি প্রথম থেকেই টার্গেট করে নিয়েছিল তাঁদের নির্দিষ্ট সিটগুলো। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে ভবানীপুরে তাঁকে মুসলিমরা ভোট দেয়নি। কিন্তু ১৭৭ সিটে বিজেপি নিবিড় প্রচার করেছে। অন্য় সিটগুলো প্রচার করলেও এই নির্দিষ্ট কয়েকটি সিটে জেতার লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। বুথ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বারবার দেখা গিয়েছে যে ৮০ হাজার বুথের মধ্য়ে ৪০ হাজার বুথে দুর্বল সংগঠন ছিল। বিএলও যেখানে সব জায়গায় দেওয়া হল না। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বুথ স্তরে একেবারে সাংগঠনিক নেতারা বসে কড়া সংগঠন তৈরি করলেন। 

প্রচারে বাড়তি যোগ দেওয়া হল। শুধু উঁচু তলা, নীচু তলা নয়। একেবারে আদি-নিষ্ক্রিয় বা বাংলায় যাঁদের বলা যায় বসে যাওয়া নেতাদের ফের ফিরিয়ে এনেছিল বিজেপি। বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আমলে সব আদিদের গুরুত্ব দিয়ে ফিরিয়ে আনা হল। রাহুল সিনহা, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, তথাগত রায় সবাই একসঙ্গে প্রচারের কাজে বা তাঁদের কর্মসূচি নিয়ে হাতে হাত ধরে কাজ করলেন। 

শুভেন্দু অধিকারীর মাঠে নেমে লড়াই তো আছেন। কাঁথি থেকে দিন শুরু হত। শ্যামবাজারে এসে শেষ হত। একদিকে এই তৃণমূল সরকারের অরাজকতা ও দুর্নীতি, ভুল ত্রুটির দিকে অঙুলি নির্দেশ। বিজেপি যে ভুল করেছিল মাস ছয়েক আগে, তা থেকে শিক্ষা নিয়েছে তারা। 

জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী এগুলো শুরুতে বলেছিল যে ভিক্ষা। কিন্তু পরে বিজেপি এখানে প্রচারে বলে যে তৃণমূল দেড় হাজার করে দিলে তারা ক্ষমতায় এসে তিন হাজার টাকা করে দেবে। জনকল্য়াণমূলক প্রকল্প বন্ধ হবে না, এই কথাই বলেছিল বিজেপি। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ থেকে বিভিন্ন জায়গায় এই মডেল সাফল্য পেয়েছে। এখানেও ভোটের ফল দেখাচ্ছে যে মহিলারা কিন্তু ঢেলে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। বিজেপিকে অনেক বেশি করে বাঙালি করে তুলেছে। তৃণমূল প্রচারে বারবার বলেছে যে বিজেপি এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে। কিন্তু মাছ-মাংসকে একেবারে সেলিব্রেট করে খাবারের পাতে নিয়ে আসার কথা বলেছেন শমীক ভট্টাচার্য থেকে বিজেপির বুথ কর্মীরাও।

রামের পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে কালী, দুর্গা সবার কথাই উল্লেখ করেছে বিজেপি। বাংলা বিরোধী যে প্রচার তৃণমূল কংগ্রেসের তা কার্যত ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে।

Previous post

Suvendu Adhikari: ভবানীপুরের মুসলমানরা ভোট দেয়নি, আমাকে জিতিয়েছে হিন্দুরা, শিখ সমাজ: শুভেন্দু অধিকারী

Next post

WB Assembly Election Result 2026: ‘যাঁরা আমাকে ভোট দেননি তাঁদেরও…’, এগরা থেকে নির্বাচনে জিতে কী বললেন শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী…জানুন

Post Comment

You May Have Missed