একই নাম কিন্তু আলাদা দল! ভোটে নতুন সমীকরণ, দুই প্রার্থীকে নিয়ে যা হচ্ছে কেতুগ্রামে!
Last Updated:
রাজনীতির ময়দানে কখন যে কোন বিষয় বড় ইস্যু হয়ে ওঠে, তা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। আর এবার কেতুগ্রাম বিধানসভায় সেই ইস্যুই হয়ে উঠেছে ‘নাম’।
কেতুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: রাজনীতির ময়দানে কখন যে কোন বিষয় বড় ইস্যু হয়ে ওঠে, তা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। এবার কেতুগ্রাম বিধানসভায় সেই ইস্যুই হয়ে উঠেছে ‘নাম’। এখানে একই নামে দুই প্রার্থী! দু’জনেরই নাম মথুরা ঘোষ। ফলে ভোটের লড়াই শুধু দল বা প্রতীকে সীমাবদ্ধ নেই, নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে জোর চর্চা ও বিভ্রান্তি। কেতুগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন অনাদি ঘোষ, তবে এলাকায় তিনি বেশি পরিচিত মথুরা ঘোষ নামেই। মৌগ্রাম অঞ্চলের চর সুজাপুর গ্রামে মথুরা বললেই মানুষ চিনে নেন তাঁকেই, আর সেই পরিচিত নাম নিয়েই পদ্মফুল প্রতীকে চলছে জোর প্রচার।
কিন্তু ঠিক এই জায়গাতেই সমস্যার সূত্রপাত। কারণ ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন আরেক ‘মথুরা ঘোষ’, যিনি কেতুগ্রাম-২ ব্লকের সীতাহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ২৪০ নম্বর বুথের সভাপতি ছিলেন, কিন্তু দল ছেড়ে নির্দল হিসেবে লড়াইয়ে নামায় রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় এসেছে। ফলে ইভিএম এ একদিকে থাকবে ‘অনাদি ঘোষ’, অন্যদিকে সরাসরি ‘মথুরা ঘোষ’ নাম, যা ভোটারদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা। এই নিয়েই বিজেপির অভিযোগ, নামের সাদৃশ্যকে কাজে লাগিয়ে ভোট কাটার উদ্দেশ্যেই এই প্রার্থীকে নামানো হয়েছে।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী শেখ শাহনেওয়াজ। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রে ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার সবার আছে, কে ভোট কাটতে নেমেছে আর কে ভোট বাড়াতে, তা ভোটাররাই ঠিক করবেন। অন্য দিকে, নির্দল প্রার্থী ‘মথুরা ঘোষ’ আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তাঁর দাবি, এলাকায় তাঁর পরিচিতি বিজেপি প্রার্থীর থেকেও বেশি এবং মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি দল ছেড়ে নির্দল হিসেবে লড়ছেন। সব মিলিয়ে কেতুগ্রামের এই নির্বাচনে এখন জমে উঠেছে নামের লড়াই। শেষ পর্যন্ত এই ‘নামের খেলা’ ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal




Post Comment