Success Story: চাকরি ছেড়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকা পুঁজি থেকে সফল উদ্যোগী, নারায়ণগড়ের দিব্যেন্দু অনুপ্রেরণার আরেক নাম
Last Updated:
Success Story: কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে থ্রিডি ফ্রেমের ব্যবসা, করোনার ধাক্কাকে সাফল্যের গল্পে বদলে দিলেন মেদিনীপুরের যুবক।
বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: করোনা মহামারী অনেকের জীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে, কেড়ে নিয়েছে চেনা জীবিকা। কিন্তু সেই বিপর্যয়কেই সুযোগে বদলে ফেলে আজ সমাজের বুকে এক অনন্য অনুপ্রেরণা তৈরি করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এক যুবক। কর্পোরেট জগতের চড়া মাইনের চাকরি ছেড়ে আজ তিনি একজন সফল উদ্যোগী। নারায়ণগড় ব্লকের রানিসরাই এলাকার বাসিন্দা দিব্যেন্দু দাস দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ভাল বেতনের সেই চাকরি চলাকালীনই থাবা বসায় করোনা।
লকডাউনের জেরে ঘরবন্দি হয়ে বাড়ি চলে আসতে বাধ্য হন তিনি। আর তখনই চেনা ছকের চাকরি জীবনের ইতি ঘটিয়ে নিজের মনের মত কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি তাঁর এক অদ্ভুত টান ছিল, সেই ভালোলাগাকেই এবার পেশায় রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।
চাকরি জীবনের জমান মাত্র ২০-২৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু হয় এক নতুন লড়াই। গ্রাহকদের পছন্দ ও নিত্যনতুন চাহিদার কথা মাথায় রেখে দিব্যেন্দু বেছে নেন থ্রিডি গিফট ও ফটো ফ্রেম তৈরির ব্যবসা। ব্যবসার প্রাথমিক কাঁচামাল কলকাতা থেকে নিয়ে এলেও, খরচ কমাতে তিনি এক অভিনব পথ বেছে নেন। স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে কম দামে ভেঙে যাওয়া ফ্রেম ও পুরনো প্লাস্টিক ফুল বাল্ক অর্ডারে কিনে এনে সেগুলিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলেন। এরপর নিজের ঘরে বসেই অর্ডার অনুযায়ী স্ত্রী সুস্মিতা দাসকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন আধুনিক থ্রিডি ফ্রেম তৈরির কাজ। এই বিশেষ ফ্রেমে ছবি, প্লাস্টিক ফুল ও অভিনব ব্যাকড্রপের এমন মেলবন্ধন ঘটানো হয়, যা দেখতে একেবারে জীবন্ত ও আসল মনে হয়।
প্রথম প্রথম পরিচিতি কম থাকলেও, অসাধারণ গুণমান ও অভিনবত্বের কারণে খুব দ্রুত এই থ্রিডি ফ্রেমের চাহিদা বাজারচলতি সাধারণ ফ্রেমকে টেক্কা দেয়। বর্তমানে এই দম্পতির হাতের জাদু মেদিনীপুরের সীমানা ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও পাড়ি দিচ্ছে। অনলাইনে দেদার অর্ডার আসছে এবং ক্রেতাদের সুবিধার্থে তা কুরিয়ারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নিজেদের ছোট্ট দোকানে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমের এই রমরমা ব্যবসার হাত ধরে বর্তমানে প্রতি মাসে ঘরে আসছে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
কম দামে ক্রেতার পছন্দমত কাস্টমাইজড ফ্রেম তৈরি করে দেওয়ার এই কৌশল দিব্যেন্দুর ব্যবসাকে আড়েবহরে অনেকটাই বাড়িয়ে তুলেছে। কর্পোরেট জীবনের মোহ ছেড়ে, সামান্য পুঁজি বিনিয়োগ করে দিব্যেন্দু ও সুস্মিতার এই যৌথ উদ্যোগ আজ শুধু তাঁদের সংসারেই সচ্ছলতা আনেনি, বরং এলাকার অন্য যুবসমাজকেও চাকরি-মুখী মানসিকতা ছেড়ে স্বনির্ভর হওয়ার এক জোরাল বার্তা দিচ্ছে।
Paschim Medinipur,West Bengal
Post Comment