কেন বাড়ছে চিনির দাম ? মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কি এই সমস্ত কারণ ? কী জানাল কেন্দ্র
Published at : 22 Aug 2026 10:38 PM (IST)
দিল্লি: গত কয়েক সপ্তাহে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগস্ট সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। এই হারে চিনির মূল্যবৃদ্ধি চিন্তায় ফেলেছে সাধারণ মানুষকে।

যদিও সাধারণ মানুষ চিনি থেকে ইথানল উৎপাদনের কারণে চিনির দাম বেড়েছে বলে যে দাবি করছেন। কিন্তু সরকার এই যুক্তিকে নাকচ করে দিয়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কয়েকটি দিকও তুলে ধরেছে সরকার।

খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, কম উৎপাদন, উৎসবের মরসুমে চাহিদা এবং মজুতদারির কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি, চিনির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে মজুতের সীমা নির্ধারণ এবং শুল্কমুক্ত আমদানির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকার।

ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। সাধারণ মানুষের জন্য চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণ করতে যে ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনির ব্যবসা করেন, তারা ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত করতে পারবেন না। এমন নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এখন প্রশ্ন ঠিক কী কারণে দাম বাড়ছে ? অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হ্রাস – চলতি মৌসুমে চিনির উৎপাদন প্রায় ৩০.৬ মিলিয়ন টন হবে বলে আশা করা হয়েছিল, যা আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর করা প্রায় ৩৪.৩ মিলিয়ন টনের প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে কম। এই ঘাটতির কারণ হিসেবে আখের জমিতে রোগের প্রকোপ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জল জমে যাওয়ায় চিনি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

উৎসবের মরসুমের চাহিদা: সামনে উৎসবের মরসুম, তাই চিনির চাহিদাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কারণে দাম বৃদ্ধি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আবহাওয়াজনিত ফসলের ক্ষতি: অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, জল জমে থাকা ও বন্যার কারণে আখের উৎপাদন কমে গেছে, যা উৎপাদনের আনুমানিক পরিমাণ হ্রাসের একটি বড় কারণ।

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ হ্রাস: বিশ্বব্যাপী সরবরাহ হ্রাসের কারণে আন্তর্জাতিক চিনির দামও বেড়েছে। সরকারের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালে বিশ্বব্যাপী চিনির ঘাটতি হবে প্রায় ৩৩ লক্ষ টন। আন্তর্জাতিক চিনির দাম ১৬ শতাংশের বেশি বেড়ে। ৩০শে জুনের ৪৭৪ ডলার থেকে ২০শে আগস্টে প্রতি টন ৫৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে, অপরিশোধিত চিনি আমদানির ওপরও কর মওকুফ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৪০০ টন মজুতের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎসবের মরসুমে বাজারে চিনির সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কারখানাগুলোকে ১৫ই অক্টোবর থেকে আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা। ২০ অগস্ট সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৫৫.৭০ টাকা। মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কম দেশীয় উৎপাদন, উৎসবের মরশুমের আগে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত কারণে আখের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে যাওয়া এবং শিল্পের কিছু অংশের জল্পনা ও মজুতদারি। খুব তাড়াতাড়ি আখ মাড়াই-এর কার্যক্রম শুরু হলে অক্টোবরে চিনির উৎপাদন ১০ লক্ষ টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত এই মাসে মাত্র ৩ থেকে ৪ লক্ষ টন চিনি উৎপাদিত হয়।
Published at : 22 Aug 2026 10:38 PM (IST)
Post Comment