Satipith: বছরভর থাকেন জলের তলায়! এ বছর কবে জল থেকে উঠবেন মা যোগাদ্যা? জানুন পবিত্র দিনক্ষণ
Last Updated:
Satipith: ৩০ বৈশাখ ভোররাতে অর্থাৎ ৩১ বৈশাখ ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে মা যোগাদ্যাকে ক্ষীরদিঘির জল থেকে তোলা হবে। তারপর দিনভর চলবে পুজোপাঠ।
মঙ্গলকোট, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের ক্ষীরগ্রাম। এই গ্রামের নাম উচ্চারণ হলেই ভক্তদের মনে ভেসে ওঠে এক অলৌকিক ঐতিহ্যের ছবি। কারণ এখানেই রয়েছে সতীপীঠ মা যোগাদ্যার মন্দির। ক্ষীরগ্রামে সতীদেহের ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল বলেই কথিত রয়েছে। যোগাদ্যা দেবীর প্রস্তর মূর্তি সারা বছর জলের তলায় রাখা থাকে। প্রতি বছর বৈশাখ সংক্রান্তিতে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে ক্ষীরগ্রামে। এই পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল, সারা বছর ক্ষীরদিঘির জলের তলায় থাকা মা যোগাদ্যাকে বিশেষ তিথিতে জল থেকে তুলে আনা হয়। বহু ভক্ত সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন সেই বিরল মুহূর্ত নিজের চোখে দেখার জন্য।
মন্দির কমিটির সদস্য রমেন চৌধুরী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ৩০ বৈশাখ ভোররাতে অর্থাৎ ৩১ বৈশাখ ভোর সাড়ে তিনটে থেকে চারটের মধ্যে মা যোগাদ্যাকে ক্ষীরদিঘির জল থেকে তোলা হবে। জল থেকে তোলার পর ভক্তরা দড়ি দিয়ে টেনে দেবীকে নিয়ে যান উত্থান মন্দিরে। সেখানে ২৪ ঘণ্টার জন্য দেবীকে রাখা হবে যাতে সাধারণ ভক্তরা দর্শন ও পুজো দেওয়ার সুযোগ পান। প্রথা মেনে মহাপুজোর পরে রাতেই আবার দেবীকে ক্ষীরদিঘির জলে নামিয়ে দেওয়া হয়। এটাই বহু প্রাচীন রীতি।
পুজো দিতে এলে ভক্তদের নির্দিষ্ট লাইনের মাধ্যমে দেবীর কাছে পৌঁছে পুজো দিতে হবে। মন্দির কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। কীভাবে আসবেন? ট্রেনে এলে বর্ধমান থেকে কৈচড় হল্ট স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে টোটো, গাড়ি ও বাসে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরেই ক্ষীরগ্রামের যোগাদ্যা মন্দির। আবার বাসে এলে কৈচড় বাসস্ট্যান্ডে নেমেও সহজেই টোটো করে মন্দিরে পৌঁছে যাওয়া যাবে।মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুজোর দিন মন্দির চত্বরে উপচে পড়া ভিড় হয়। তাই দূরদূরান্ত থেকে যারা মা যোগাদ্যার দর্শনে আসতে চান, তাঁদের আগে ভাগে পৌঁছে যাওয়াই শ্রেয়। ভক্তদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবারও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি মেলা কমিটির।
Barddhaman,West Bengal



Post Comment