Micro Art: সরকারি ডাকে সাড়া, কলকাতার বিখ্যাত লাইব্রেরিতে ঠাঁই পেল এক টুকরো তেঁতুল বীজ! শিল্পকর্ম দেখে চোখ কপালে উঠবে

Micro Art: সরকারি ডাকে সাড়া, কলকাতার বিখ্যাত লাইব্রেরিতে ঠাঁই পেল এক টুকরো তেঁতুল বীজ! শিল্পকর্ম দেখে চোখ কপালে উঠবে

Last Updated:

Micro Art: তেঁতুলের বীজের উপর রাজা রামমোহন রায়ের নিখুঁত প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাসুদেব পাল। তাঁর এই অনন্য সৃষ্টি ‘রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি’তে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর আগেও চাল, পোস্তদানা, সর্ষেদানা, কুমড়োর বীজ ও চুলের ওপর নেতাজি, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, মহাত্মা গান্ধী সহ বিভিন্ন মনীষী ও সেলিব্রিটিদের ছবি এঁকেছেন।

+

এই শিল্পকর্ম রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হয়েছে

উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ন রায়: ছোট্ট তেঁতুলের বীজে ফুটে উঠল রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিকৃতি, সরকারি লাইব্রেরিতে স্থান পেল অশোকনগরের শিল্পীর অনন্য সৃষ্টি। মাত্র এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার আকারের একটি তেঁতুলের বীজের ওপর রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিকৃতি অঙ্কন করে নজর কেড়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কচুয়া মোড় এলাকার শিল্পী বাসুদেব পাল। তাঁর এই অনন্য শিল্পকর্ম সম্প্রতি কলকাতার সরকারি রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ তা দেখতে পারবেন।

শিল্পীর কাছে এটি তাঁর দীর্ঘ শিল্পসাধনার এক বড় স্বীকৃতি। বাসুদেব পালের কথায়, ভারত সরকারের অধীনস্থ রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ তাঁকে এমন একটি শিল্পকর্ম তৈরি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, যা আগে কেউ করেননি। সেই ভাবনা থেকেই তেঁতুলের ক্ষুদ্র বীজের ওপর রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিকৃতি আঁকার পরিকল্পনা করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টার সূক্ষ্ম পরিশ্রমের পর সম্পূর্ণ হয় সেই শিল্পকর্ম, যা এখন সরকারি সংগ্রহে স্থান পেয়েছে। এর আগেও চাল, পোস্তদানা, সর্ষেদানা, কুমড়োর বীজ, দেশলাইয়ের কাঠি, চুলসহ নানা ক্ষুদ্র বস্তুর ওপর অসাধারণ শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বাসুদেব পাল।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ভোগান্তি মেটাতে তৈরি হচ্ছে ব্লু-প্রিন্ট, শীঘ্রই নতুন রেল ব্রিজ পাবে ‘এই’ জায়গা

পোস্তদানার ওপর ভারতের জাতীয় পতাকা, চুলের ওপর ‘ইন্ডিয়া’ লেখা এবং বিভিন্ন বীজের ওপর নেতাজি, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মহাত্মা গান্ধী, স্বামী বিবেকানন্দ-সহ বহু মনীষীর প্রতিকৃতি এঁকেছেন তিনি। পাশাপাশি লক্ষ্মী, দুর্গা, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের ছবিও ফুটিয়ে তুলেছেন ক্ষুদ্র ক্যানভাসে। এছাড়াও তার শিল্প সংরক্ষণে রয়েছে মেসি থেকে সৌরভ গাঙ্গুলী সহ বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষের ছবি। তাঁর এই অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম উঠেছে বাসুদেব পালের। তবে এখনও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলার স্বপ্ন অপূর্ণ।

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

শিল্পীর বিশ্বাস, এ ধরনের ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম একদিন তাঁকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে। অভাবের সংসারে বর্তমানে প্রিন্টিংয়ের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন বাসুদেব পাল। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অনটনের কারণে ছবি আঁকার সরঞ্জাম কেনা সম্ভব হয়নি। তাই ফেলে দেওয়া বীজ, দানাশস্য ও অন্যান্য ক্ষুদ্র বস্তুই হয়ে ওঠে তাঁর ক্যানভাস। সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, এই ধরনের বিরল ক্ষুদ্রশিল্প সংরক্ষণ ও শিল্পীদের উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাঁর মতে, তা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই অনন্য শিল্পধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। অশোকনগরের শিল্পীর এই হাতের কাজ বিখ্যাত সরকারি লাইব্রেরীতে স্থান পাওয়ায় অনেকেই তার এই শিল্পকর্মের প্রশংসা করছেন।

Post Comment

You May Have Missed