Inspiring Story: গৃহশিক্ষক ছাড়াই শুরু পথচলা! আজ নিউরোলজিতে দেশের সেরা, রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক পেয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন পুরুলিয়ার অনুশ্রী

Inspiring Story: গৃহশিক্ষক ছাড়াই শুরু পথচলা! আজ নিউরোলজিতে দেশের সেরা, রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক পেয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন পুরুলিয়ার অনুশ্রী

Last Updated:

Inspiring Story: মফস্বলের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের চিকিৎসকদের শ্রেষ্ঠতম মঞ্চে জায়গা করে নিলেন ডাঃ অনুশ্রী পাল। মাধ্যমিক পর্যন্ত কোনও প্রাইভেট টিউটর ছাড়াই বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে পড়ালেখা করা অনুশ্রী নিউরোলজিতে অন্যতম সেরা হয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক। ১৩৭ জন কৃতি চিকিৎসকের মধ্যে অনন্য হয়ে ওঠা পুরুলিয়ার এই মেয়ের সাফল্য আজ সবার অনুপ্রেরণা।

দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাত থেকে নিউরোলজির সর্বোচ্চ সম্মান 'প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল' গ্রহণ করছেন পুরুলিয়ার ডাঃ অনুশ্রী পাল
দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাত থেকে নিউরোলজির সর্বোচ্চ সম্মান ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’ গ্রহণ করছেন পুরুলিয়ার ডাঃ অনুশ্রী পাল

পুরুলিয়া, শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি: পুরুলিয়ার বলরামপুর আজ গর্বে উজ্জ্বল। জেলার মাটির মেয়ে ডাঃ অনুশ্রী পাল নিজের অসামান্য মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে পৌঁছে গেলেন দেশের অন্যতম সেরা সম্মানের আসরে। দিল্লির ঐতিহাসিক বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত গৌরবময় অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-র হাত থেকে তিনি গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক ‘প্রেসিডেন্টস গোল্ড মেডেল’।

একটি ছোট শহরের সাধারণ পরিবারের মেয়ের এই সাফল্য যেন আজ সমগ্র পুরুলিয়ার স্বপ্নপূরণের গল্প। নিউরোলজিতে ডিআরএনবি পরীক্ষায় বিভাগে টপার হয়ে দেশের সেরা চিকিৎসকদের তালিকায় নিজের নাম তুলে এনেছেন অনুশ্রী। দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৩৭ জন কৃতী চিকিৎসককে সম্মান জানান হলেও, বলরামপুরের মানুষের কাছে এই সম্মান যেন আবেগ, গর্ব আর অনুপ্রেরণার এক অনন্য অধ্যায়।

আরও পড়ুন: ইতিহাসের পাতায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ! রাজ্যে প্রথম সরকারি হাসপাতালে যা ঘটল, গর্বে বুক ভরছে সবার

১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জন্ম নেওয়া অনুশ্রীর শিক্ষাজীবনের শুরু হয়েছিল বলরামপুরের ছোট্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিবেকানন্দ শিশু নিকেতন’-এ। পরে লালীমতী বালিকা বিদ্যালয় ও পুরুলিয়া শান্তময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নজর কাড়েন তিনি। এরপর জয়েন্ট পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে জেনারেল মেডিসিনে এমডি এবং পরবর্তীতে কলকাতার ইন্সটিটিউট অফ নিউরো সায়েন্স থেকে নিউরোলজিতে ডিআরএনবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

আরও পড়ুন: কম খরচে বাম্পার লাভ! দারুণ সাড়া ফেলেছে সিমেন্ট ইট তৈরির ব্যবসা, মিলছে প্রতি মাসে মোটা আয়ের গ্যারান্টি

এ বিষয়ে অনুশ্রী পালের বাবা অমৃত পাল বলেন , মেয়ের এই সাফল্যে তিনি আপ্লুত। ছোটবেলা থেকেই বিরাট মেধাবী ছিল তার মেয়ে। স্কুল-কলেজ সমস্ত জায়গাতেই নিজের মেধার জন্য  চর্চিত ছিল।  অনুশ্রীর এই সাফল্যের পেছনে তার মায়েরও বিরাট অবদান রয়েছে। মেয়েকে নিয়ে গর্বিত তিনি। তবে এই সাফল্যের গল্প শুধু ডিগ্রির নয়, এটি লড়াই, শৃঙ্খলা ও পারিবারিক ত্যাগের গল্পও। মাধ্যমিক পর্যন্ত কোনও প্রাইভেট টিউটর ছাড়াই বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে এগিয়েছে তাঁর পড়াশোনা। বিশেষ করে মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উৎসাহ আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছনোর অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/

Inspiring Story: গৃহশিক্ষক ছাড়াই শুরু পথচলা! আজ নিউরোলজিতে দেশের সেরা, রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক পেয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলেন পুরুলিয়ার অনুশ্রী

Post Comment

You May Have Missed